প্রচ্ছদ    HT All Article   রসুলাল্লাহর (দ.) ক্রোধ ও ক্ষমা

রসুলাল্লাহর (দ.) ক্রোধ ও ক্ষমা

২ মার্চ ২০২৩ ১২:৪২ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর লেখা থেকে সম্পাদিত

মহানবীর (দ:) ৬০/৭০ বছর পর থেকে যে সব বিকৃত এই দীনের মধ্যে প্রবেশ করে উম্মাহকে তার লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দিল এবং কালক্রমে তাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি থেকে নিকৃষ্টতম জাতিতে পরিণত করল সেগুলোর মধ্যে প্রধান বিকৃত ছিল দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি। আল্লাহ কোর’আনে একাধিকবার দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করা নিষেধ করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন, হে আহলে-কিতাবগণ! তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে নিতান্ত সঙ্গত বিষয় ছাড়া কোন কথা বলো না। Commit no excesses in your religion (সুরা নিসা, ১৭১)। আবার বলেছেন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা নিজেদের ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না এবং এতে ঐ সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে (সুরা আল মায়েদা, ৭৭)।

দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করার এই নিষেধের অর্থ কী? এর মানে কি এই যে, খুব ধার্মিক হয়োনা বা দীনকে ভালোভাবে অনুসরণ কর না, বা বেশি ভালো মুসলিম হবার চেষ্টা কর না? অবশ্যই তা হতে পারে না। এই বাড়াবাড়ির অর্থ, আল্লাহ যতটুকু করতে বলেছেন ততটুকু করা। তার চেয়ে বেশি না করা। সওয়াবের আশায় নিজেদের উপর বাড়তি কঠোরতা আরোপ না করা। এতে সওয়াবের বদলে গোনাহই বৃদ্ধি পাবে এবং জাতি সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে।

একইভাবে আল্লাহর নবীও তাঁর বিদায় হজের ভাষণসহ বিভিন্ন খোতবায় দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। শুধু তাই নয়, যখনই তিনি দীনের কোনো বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি দেখেছেন তার আসহাবদের মধ্যে তখনই রেগে গেছেন। যেমন একদিন একজন লোক এসে আল্লাহর রসুলের (দ.) কাছে অভিযোগ করলেন যে অমুক লোক নামায লম্বা করে পড়ান কাজেই তার (পড়ানো) জামাতে আমি যোগ দিতে পারি না। শুনে তিনি এত রাগান্বিত হয়ে গেলেন যে -বর্ণনাকারী আবু মাসউদ (রা.) বলছেন যে- আমরা তাকে এত রাগতে আর কখনও দেখি নি (বোখারী)।

আরও পড়ুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কোন বিষয়ে মাসলাহ জানতে চাইলে বিশ্বনবী (দ.) প্রথমে তা বলে দিতেন। কিন্তু কেউ যদি আরও একটু খুঁটিয়ে জানতে চাইতো তাহলেই তিনি রেগে যেতেন। কারণ তিনি জানতেন ঐ কাজ করেই অর্থাৎ ফতওয়াবাজী করেই তার আগের নবীদের জাতিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।

কিন্তু তার অত ক্রোধেও অত নিষেধেও কোন কাজ হয় নি। তার জাতিটিও ঠিক পূর্ববর্তী নবীদের জাতিগুলির মত দীন নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে অতি মুসলিম হয়ে মসলা-মাসায়েলের তর্ক তুলে শিয়া-সুন্নী, হানাফি-হাম্বলী, সালাফি-দেওয়বন্দী ইত্যাদি হাজারো বিভেদ সৃষ্টি করে শক্তিহীন হয়ে শত্রুর কাছে পরাজিত হয়ে তাদের গোলামে পরিণত হয়েছে।

কী ধরনের বিষয়ে আল্লাহর রসুল (দ.) রেগে যেতেন তা দেখা গেল। এবার দেখা যাক কী ধরনের বিষয়ে তিনি ক্রোধান্বিতও হন নি। যেমন:

(ক) ব্যভিচার। এক যুবক একদিন রসুলাল্লাহর কাছে এসে বলল “আমি ইসলাম গ্রহণ করতে চাই, কিন্তু আমি ব্যভিচার (যেনা) থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারব না”। হাদিস বর্ণনাকরী বর্ণনা করছেন যে সেই মহামানব রাগ তো করলেন না-ই বরং ঐ যুবককে  স্নেহভরে নিকটে ডেকে বসিয়ে বললেন, তোমার মা, বোন, মেয়ের সাথে কেউ ব্যভিচার করলে তুমি কি তা পছন্দ করবে? সেই যুবক রক্তাক্ত চোখে জবাব দিল, “কেউ তা করার আগেই আমি তাকে দু’টুকরো করে কেটে ফেলবো।” মহানবী (দ.) বললেন “তাই যদি হয় তবে তুমি ভুলে যাচ্ছ কেন যে তুমি যার সাথে ব্যভিচার করবে সেও তো কারো মা বা বোন বা মেয়ে (বোখারী )।”

(খ) সহিহ হাদিসে বেশ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ আছে যেখানে কোন লোক নিজেকে সংযত রাখতে না পেরে ব্যভিচার করে ফেলেছেন। পরে শুধু অনুতপ্ত হয়েই তারা ক্ষান্ত হন নি, তারা আল্লাহর দেয়া শাস্তি গ্রহণ করে পবিত্র হতে চেয়েছে, তারা আল্লাহর রসুলের (দ.) কাছে এসে তাদের ব্যাভিচারের কথা প্রকাশ করে দিয়ে শাস্তি চেয়েছেন। ঐসব ঘটনায় বিশ্বনবী (দ.) কী করেছেন তা লক্ষ্য করার বিষয়। কোন সামান্যতম রাগ করেন নি বরং সমস্ত ব্যাপারটাকে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছেন। ভাবটা এই রকম যে তুমি অপরাধ করে ফেলেছ তো ফেলেছই, সেটা আবার প্রকাশ করতে এসেছ কেন? তুমি না বললে তো কেউ জানবেই না যে তুমি কী করেছ। কাজেই ও গোপন ঘটনা গোপনই রাখো।

শাস্তি পেতে কৃতসংকল্প সেই লোককে যখন তিনি কিছুতেই বিরত করতে পারেন নি তখন তিনি তাকে উকিলের মত জেরা করেছেন, এই উদ্দেশ্যে যে যদি ঐ লোকের বর্ণনায় কোন খুঁত বের করতে পারেন তবে হয় শাস্তি দেবেন না বা লঘু শাস্তি দেবেন। উদাহরণ দিচ্ছি- একজন লোক মসজিদে (নববী) এসে বিশ্বনবীকে (দ.) বললেন ইয়া রসুলাল্লাহ! আমি ব্যভিচার করেছি। কোন জবাব না দিয়ে মহানবী (দ.) ঘুরে অন্যদিকে হয়ে বসলেন। ঐ লোকটি ঘুরে রসুলাল্লাহর (দ.) সামনে যেয়ে আবার ঐ কথা বললেন এবং তিনি কোন জবাব না দিয়ে আবার ঘুরে অন্যদিকে হয়ে বসলেন। চারবার ওমনি করার পর অর্থাৎ প্রকাশ্যে চারবার ব্যাভিচারের ঘোষণা দেবার পর আল্লাহর রসুল (দ.) তাকে বিধিবদ্ধ শাস্তির আদেশ দিলেন (আবু হোরায়রা (রা:) থেকে বোখারী, মুসলীম, মেশকাত)।

প্রকাশ্যে জনসমক্ষে চারবার ব্যাভিচারের স্বীকৃতি ঘোষণা না করলে মহানবী (দ.) শাস্তির আদেশ দিতেন না। অনেক সময় প্রথম ঘোষণার পর অপরাধীকে ফেরৎ পাঠিয়ে দিতেন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে মাফ চাইবার জন্য। চারবার ফেরৎ এসে স্বীকৃতি ঘোষণার পরও তাকে জেরা করতেন বর্ণনায় খুঁত ধরার জন্য [ইয়াযীদ বিন নুয়াইম (রা:) এবং আবু হোরায়রা (রা:)]।

যখন কোন মানুষ মহানবীর (দ.) দরবারে এসে অর্থাৎ প্রকাশ্য জনসমক্ষে সবাইকে শুনিয়ে রসুলাল্লাহকে বলতেন যে তিনি ব্যভিচার করেছেন শুধু তখনই আল্লাহর নবী (দ.) বুঝে যেতেন যে ঐ লোকটির লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চ। তিনি চাচ্ছেন যে তার অপরাধে, পদস্খলের শাস্তি এই দুনিয়াতেই হয়ে যাক, যাতে তিনি পবিত্র হয়ে পরজগতে প্রবেশ করতে পারেন, যেখানে ঐ অপরাধের জন্য আবার শাস্তি হবে না। কিন্তু তা জেনেও তিনি তার শাস্তি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করতেন। যখন দেখতেন যে ঐ লোক এই দুনিয়াতেই পবিত্র হবার জন্য এমন কৃতসংকল্প যে তিনি চার চারবার প্রকাশ্যে তার অপরাধের কথা ঘোষাণা করছেন শুধু তখন তিনি তাকে আল্লাহর শরিয়াহ অর্থাৎ এই দণ্ডবিধি (Penal Code) মোতাবেক শাস্তির আদেশ দিতেন।

একজন লোককে মদ খেয়ে মাতলামির জন্য শরাহ মোতাবেক শাস্তি দেয়া হলো, দিলেন বিশ্বনবীই (দ.)। কিছুদিন পর তাকে আবার নবীর (দ.) পবিত্র দরবারে ধরে নিয়ে আসা হলো ঐ একই অপরাধে অর্থাৎ মদ পান করার জন্য। এবারও তিনি যথাযথ শরাহ মোতাবেক তার শাস্তির আদেশ দিলেন। কিন্তু হাদিস বর্ণনাকারী স্বয়ং ওমর (রা:) কোনও উল্লেখ করলেন না যে রসুলাল্লাহ (দ.) কোন রকম রাগ প্রকাশ করলেন বা কোন কসমও করলেন। উপস্থিত লোকজনের মধ্য থেকে একজন বলে উঠলেন- এর উপর আল্লাহর লা’নত হোক, একই অপরাধের জন্য একে কতবার হাযির করা হচ্ছে। ঐ সাহাবার কথা শুনে মহানবী (দ.) বললেন, “একে লানত করো না, আল্লাহর নামে আমি কসম করে বলছি এ আল্লাহ ও তার রসুলকে ভালবাসে (ওমর বিন খাত্তাব (রা:) থেকে বোখারী)।” লক্ষ্য করুন, বিশ্বনবী (দ.) ঐ মদখোরের পুনঃ পুনঃ মাতলামীর জন্য কসম খেলেন না, কসম খেলেন লোকটির সমর্থনে।

আরেক দিন একজন লোক মদ খেয়ে মাতাল হয়ে রাস্তায় গড়াগড়ি দিচ্ছিল। লোকজন তাকে ধরে মহানবীর (দ.) দরবারে নিয়ে যাবার জন্য রওয়ানা হলো। পথে ইবনে আব্বাসের (রা.) বাড়ি পড়ে। লোকজন ইবনে আব্বাসের বাড়ীর কাছে আসতেই লোকটি হঠাৎ সবার হাত ছাড়িয়ে দৌঁড়ে ইবনে আব্বাসের (রা.) বাড়ীতে ঢুকে তাকে জড়িয়ে ধরলো। লোকজন তাকে তাঁর কাছে থেকে ছাড়াতে না পেরে আল্লাহর রসুলের (দ.) কাছে যেয়ে ঘটনা বললো। রসুলাল্লাহ (দ.) ঘটনা শুনে হেসে ফেললেন এবং বললেন “সে তাই করেছে নাকি?” বিশ্বনবী (দ.) কোন শাস্তির কথা বললেন না।

(গ) নামায। একদিন কিছু আসহাব বিশ্বনবীর (দ.) কাছে অভিযোগ করলেন যে অমুক গোত্রের সমুদয় লোকই ফযরের নামায সময় মত পড়ে না। শুনে আল্লাহর রসুল (দ.) বললেন “তাই নাকি?” অতঃপর ঐ গোত্রের লোক সকলকে ডেকে আনা হলো। মহানবীর (দ.) প্রশ্নের উত্তরে তারা স্বীকার করলেন যে তারা ফযরের নামায ফযরের সময় পড়েন না, ঘুমিয়ে থাকেন এবং অনেক পরে ঘুম থেকে ওঠার পর পড়েন। কারণ হিসেবে আরজ করলেন যে তারা সবাই কৃষি কাজ করেন। দিনের প্রচণ্ড রৌদ্রে মাঠে কাজ করা সম্ভব নয় বলে রাত্রে কাজ করেন এবং শ্রান্ত ক্লান্ত হয়ে শেষ রাত্রের দিকে ঘুমিয়ে পড়েন এবং ফযরের নামায সময়মত পড়া হয় না। শুনে আল্লাহর রসুল (দ.) তাদের অনুমতি দিয়ে দিলেন তারা যেমনভাবে নামায পড়ছে তেমনি পড়ার জন্য (মুসলিম)।

একটি পুরো গোত্র সময় মত নামায পড়ে না জেনেও বিশ্বনবী (দ.) কোন রকম রাগ করেছেন বলে হাদিসের বর্ণনায় উল্লেখ নেই। একবার মহানবীকে (দ.) জানানো হলো যে অমুক লোক চুরি করে। তিনি রাগও করলেন না, উত্তেজিতও হলেন না, এমনকি ঐ লোকটিকে ধরে আনতেও বললেন না। সহজভাবে জিজ্ঞেস করলেন লোকটি কি নামায পড়ে? তাকে জানানো হলো যে, হ্যাঁ, সে নামায অবশ্য পড়ে। শুনে মহানবী (দ.) বললেন নামাযই চুরি থেকে একদিন বিরত করবে।

একদিন আল্লাহর রসুল (দ.) তার আসহাবসহ মসজিদে নববীতে বসা আছেন এমন সময় একজন গ্রাম্য বেদুইন আরব যে নিজেও ওখানে সবার সঙ্গে বসা ছিলো উঠে মসজিদের ভেতরেই প্রশ্রাব করতে শুরু করলো। সাহাবারা সবাই চেঁচিয়ে উঠলেন- এই থামো থামো (স্বভাবতই)। কিন্তু আল্লাহর রসুল (দ.) তার সাহাবাদের বললেন ওকে বাধা দিও না, করতে দাও। তার আদেশে আসহাব বিরত হলেন এবং লোকটি প্রশ্রাব করা শেষ করলো। তারপর বিশ্বনবী (দ.) ঐ লোকটিকে কাছে ডেকে বুঝিয়ে বললেন যে এই জায়গা আল্লাহর এবাদতের জায়গা, আল্লাহকে স্মরণ ও কোর’আন পাঠের জায়গা। কাজেই এখানে কারো পেশাব পায়খানা করা উচিত নয়। তারপর তার আদেশে পানি এনে মসজিদ ধুয়ে ফেলা হলো [আবু হোরায়রা (রা:) এবং আনাস (রা:) থেকে বোখারী ও মুসলিম]। হাদিসের বর্ণনা এবং ভাষা থেকে একথা পরিষ্কার যে এমন একটা ঘটনায় তিনি বিন্দুমাত্র রাগ করেন নি, একটুকুও উত্তেজিত হন নি, লোকটাকে প্রশ্রাব শেষ করতে দিয়েছেন ও তারপর তাকে কাছে ডেকে শান্তভাবে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

পাঠক পাঠিকাগণ! মোহাম্মদের (দ.) মাধ্যমে আল্লাহ যে দীন মানব জাতির জন্য পাঠিয়েছিলেন সেই দীন এবং বর্তমানে আমরা ইসলাম বলে যে দীনটাকে নিষ্ঠা ভরে পালন করি এই দুই দীন পরস্পর বিরোধী-বিপরীতমুখী। যে হাদিসগুলি উল্লেখ করেছি সেগুলো একটা একটা করে দেখুন আর চিন্তা করুন। দেখতে পাবেন যে সব ঘটনায় আল্লাহর রসুল (দ.) বিন্দুমাত্র বিচলিত হন নি, সেইসব ঘটনায় বর্তমানের ধর্মীয় নেতারা কী করবেন। মসজিদে পেশাব করলে তো মেরেও ফেলতে পারেন। অন্যদিকে যে কাজে যে ব্যাপারগুলোয় সেই সর্বরিপুজয়ী সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রেগে লাল হয়ে গেছেন, উত্তেজনা ভরে কসম খেয়েছেন সেই হাদিসগুলি একটু দেখুন। দেখবেন সেই ব্যাপারগুলো শুধু যে মহা উৎসাহ ভরে করা হচ্ছে তাই নয়, মহা পুণ্যের মহা সওয়াবের কাজ মনে করে করা হচ্ছে। যে কাজগুলোকে বিশ্বনবী (দ.) কুফর বলে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই কাজ যে যত বেশি করছে আজকের এই “দীন ইসলামের” দৃষ্টিতে সে তত পাক্কা মুসলিম।

লক্ষ্য করলে আরও একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখতে পাবেন। সেটা হচ্ছে এই যে, ব্যক্তিগত মহাপাপ গুনাহে কবিরার ব্যাপারেও তিনি কিছুমাত্র রাগেন নি। কিন্তু আজ আমাদের কাছে যে সব বিষয়ের কোন গুরুত্ব নেই- যেমন জাতীয় ঐক্য, লক্ষ্য আকীদা, শৃঙ্খলা, গুরুত্ববোধ ইত্যাদি এককথায় যেসব বিষয়গুলি পৃথিবীতে আল্লাহর সংবিধান ও শাসন-প্রতিষ্ঠাকে ব্যাহত করতে পারে সেগুলির প্রত্যেকটায় তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন। কারণ হলো এই যে, আল্লাহর সংবিধান কোর’আন এবং রসুলের (দ.) হাদিস অনুযায়ী মানুষের জীবন শাসন ও পরিচালন করা হলে, আল্লাহর দেয়া আইন অনুযায়ী আদালতে বিচার করা হলে, আল্লাহর দেয়া দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধের শাস্তি দেয়া হলে সমাজ থেকে ব্যক্তিগত অপরাধ নিজে থেকেই প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রমাণ ইসলামের প্রথম ৬০/৭০ বছরের ইতিহাস। অন্যদিকে ঐ কাজ না করে ব্যক্তিগতভাবে যত পুণ্যের-সওয়াবের কাজই করা হোক যত তাকওয়া করা হোক সমাজের সর্বপ্রকার অপরাধ বেড়েই চলবে, ফাসাদ-অন্যায়-অবিচার বেড়েই চলবে, যুদ্ধ, রক্তপাত, হানাহানি বেড়েই চলবে, ইবলিস সফল ও কৃতকার্য হবে। প্রমাণ বর্তমান পৃথিবী। এক কথায় বিশ্বনবীর (দ.) ও তার সাহাবাদের ইসলাম সম্বন্ধে ধারণা আর আজকের আমাদের ধারণা বিপরীতমুখী। তাই বিশ্বনবীর (দ.) আসহাব অর্ধেক পৃথিবীকে বশ্যতা স্বীকার করিয়েছিলেন আর আজ এই জনগোষ্ঠী পৃথিবীর সব জাতির লাথি খাচ্ছি, আখেরাতেও আমাদের জন্য জাহান্নাম অপেক্ষা করছে।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
 ১ মে ২০২৬    HT All Article

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমিয়েছে চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন
চীনে প্রতি ১০ কর্মদিবস অন্তর বৈশ্বিক তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে এখন চালকদের প্রায়…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    মতামত

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!
কথক দা: আমরা যেন আইয়্যামে গুজবে বাস করছি। অপতথ্য আর অপসংবাদের ভীড়ে কোনটা সত্য আর কোনটা অর্ধসত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা বোঝা খুবই মুশকিল। একসময়…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান
এম আর হাসান:খুররম খান পন্নী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এই তিনটি…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?
শাহাদৎ হোসেন:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ
ওবায়দুল হক বাদল:আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব খাতে ২ লাখ…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?
মুস্তাফিজ শিহাব:বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এক চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে রয়েছে বিপুল জনশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে চরম অবমাননা…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article