প্রচ্ছদ    HT All Article   হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর কোরবানি

হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর কোরবানি

১১ জুলাই ২০২২ ১০:৩৯ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

রাকীব আল হাসান:
এই সেই তায়েফের পাহাড়ী অঞ্চল যেখানে রসুলাল্লাহ তওহীদের আহ্বান প্রচার করতে গিয়ে রক্তাক্ত হয়েছিলেন। এভাবে তিনি তাঁর সমগ্র জীবন ও সম্পদকে কোরবান করে আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। আজকে আমরা তাঁর সেই আত্মত্যাগের শিক্ষাকে ভুলে গিয়ে নিছক পশু কোরবানি করে আত্মতৃপ্তি লাভ করছি।

একটা সমাজে যখন অন্যায় বিস্তারলাভ করে, মিথ্যা বিজয়ী হয়, মানুষে মানুষে অনৈক্য আর হানাহানি চলতে থাকে, অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়, ক্ষমতাবানদের কথাই সঠিক বলে গণ্য হয়, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি আর প্রতারণা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়, ধর্ষণ, ব্যভিচার নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে যায়, ধর্ম যখন ব্যবসার হাতিয়ারে পরিণত হয়ে যায় তখন বুঝতে হবে ঐ সমাজকে আর সংস্কার করা যাবে না বরং ঐ সমাজ ধ্বংস করে নতুন সমাজ নির্মাণ করতে হবে। নতুন সমাজ বিনির্মাণের জন্যই যুগে যুগে নবী-রসুল এসেছেন। সকল নবী-রসুলের সমাজ পরিবর্তনের মূলসূত্র একই, সেটা হলো- “তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো হুকুম মানব না অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা নেই।” এই কথা বলার সাথে সাথে সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ, পূর্বের ধর্মের পুরোহিতগণ (আলেমগণ) সেই নবীর চরম বিরোধিতা শুরু করে দিয়েছে। নবীদের উপর, তাদের সঙ্গী-সাথী বা সাহাবাদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার হয়েছে, দীনের উপর টিকে থাকাটাই একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুরাতন, পচা, মিথ্যাচ্ছন্ন ঐ সমাজ ধ্বংস করে নতুন এক সমাজ, নতুন এক সভ্যতা বিনির্মাণের জন্য এমন একদল মানুষের প্রয়োজন হয়েছে যারা সমাজ পরিবর্তনের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের জীবন, সম্পদ, সম্মান, স্ত্রী-পুত্র-পরিজন সর্বস্ব কোরবান দিতে প্রস্তুত। অর্থাৎ সমাজ পরিবর্তনের জন্য, দীন কায়েমের জন্য ত্যাগ, কোরবানি অপরিহার্য। এই কোরবানি মানে ১০ জিলহজে কেবল গরু জবাই করা কোরবানি নয় বরং ইব্রাহিম (আ.) এর মতো নিজের সন্তানকেও আল্লাহর রাস্তায় কোরবান করা লাগতে পারে, ইসমাইল (আ.) এর মতো নিজের গর্দান ছুরির নিচে সোপর্দ করা লাগতে পারে। এ কারণেই মুসলিম উম্মার শিক্ষা দেবার জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র হজ অনুষ্ঠানে ইব্রাহিম (আ.) এর সেই কোরবানির ঘটনাকে স্মরণ করে পশু জবাই দেওয়াকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন সামর্থ্যবান হাজিদের জন্য।
রসুলাল্লাহ (সা.) ও তাঁর আসহাবগণ কেবল পশু জবাই করার মধ্যেই কোরবানিকে সীমাবদ্ধ রাখেননি বরং তাঁরা তাঁদের জীবন ও সম্পদ পূর্ণরূপে আল্লাহর রাস্তায় কোরবান করে দিয়ে হেদায়াহ ও সত্যদীন কায়েম করেছেন, নতুন এক সমাজ বিনির্মাণ করেছেন, যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, অশান্তি দূর করে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

মোহাম্মদ (সা.) এর কোরবানি:
অতীতে যত নবী-রসুল (আ.) এসেছেন তাঁরা সবাই এসেছেন একটা নির্দিষ্ট অঞ্চল, নির্দিষ্ট গোত্র ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। নির্ধারিত অঞ্চল বা সমাজের বাইরে দীনের দাওয়াত দেওয়াও তাঁদের অনেকের জন্য নিষেধ ছিল। কিন্তু শেষ নবী মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) এবং শেষ দীন ইসলাম এসেছে সমগ্র মানবজাতির জন্য, সমগ্র পৃথিবীর জন্য। কেয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবী-রসুল আসবেন না, আর কোনো দীন আসবে না। কাজেই মহানবী (সা.) এর দায়িত্ব নিঃসন্দেহে বিরাট। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আমার আপন রসুলকে প্রেরণ করেছি হেদায়াহ ও সত্যদীন সহকারে, যেন তিনি এটাকে (ঐ হেদায়াহ ও সত্যদীনকে) অন্যান্য সমস্ত দীনের (জীবনব্যবস্থার) উপর প্রতিষ্ঠিত করেন, কায়েম করেন’। (সুরা তওবা- ৩৩; সুরা ফাতাহ- ২৮; সুরা সফ- ৯)। অর্থাৎ আল্লাহ শেষ নবীর উপর দায়িত্ব দিয়েছেন এই শেষ দীনকে সমগ্র পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার। বোঝাই যাচ্ছে, এত বড় কাজ করতে কী অপরিসীম ত্যাগ, অপরিসীম কোরবানি লাগবে। মহানবী (সা.) যেদিন নবুয়্যত পেয়েছেন সেদিন থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর অপরিসীম কোরবানি, অসম্ভব ত্যাগ স্বীকার করা। নব্যুয়ত পাবার সাথে সাথে তিনি যখন আম্মা খাদিজার মাধ্যমে ওরাকা বিন নওফেলকে জানালেন তখন ওরাকা বিন নওফেল বলেছিলেন, খুব দ্রুতই আপনার আপনজনেরা আপনাকে ত্যাগ করবে, আপনার উপর অত্যাচার নেমে আসবে, আপনার নিজ জন্মস্থান থেকে আপনাকে বিতাড়িত করা হবে। কিছুদিনের মধ্যে সেটাই শুরু হলো। আম্মা খাদিজা (রা.) ছিলেন মক্কার সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ী। কোনো কোনো ঐতিহাস বলেছেন, মক্কার বড় বড় ব্যবসায়ীদের মালামাল একসাথে করলেও আম্মা খাদিজার ব্যবসায়ের সমান হতো না। রসুলাল্লাহর সাথে বিয়ে হবার পর থেকে সেই ব্যবসা দেখাশুনা করতেন রসুলাল্লাহ (সা.) নিজে। তাঁর হাতের বরকতে ব্যবসা আরও বড় হতে থাকে। কিন্তু নব্যুয়তের পর এই ব্যবসাতে তিনি আর তেমন সময় দিতে পারতেন না, ফলে ব্যবসা সংকুচিত হতে থাকে। প্রথম দিকে যারা দীন গ্রহণ করেছেন তাদের বেশিরভাগ ছিল দাস-দাসী, অত্যন্ত দরিদ্র, সমাজের নিগৃহীত শ্রেণির মানুষ। তাদের বিপদ-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রসুলাল্লাহ (সা.) ও কয়েকজন বিত্তশালী সাহাবাগণ। দীন প্রচারের কাজে যে অর্থ ব্যয় হতো তারও সিংহ ভাগ বহন করতেন রসুলাল্লাহ (সা.)। এভাবে তিনি একদিকে ধনী থেকে দরিদ্র হতে লাগলেন অপর দিকে সমাজের বেশির ভাগ মানুষ তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগল। এক পর্যায়ে শুরু হলো নানামুখী অত্যাচার-নির্যাতন।

আরও পড়ুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

রসুলাল্লাহ (সা.) একদিকে ছিলেন উচ্চ বংশীয়, ক্বাবার মোতোয়াল্লী পরিবারের সন্তান, অন্যদিকে সফল ও ধনী ব্যবসায়ী। সততা, ন্যায়-নিষ্ঠতা, আমানতদারিতার জন্য তিনি ছিলেন সকলের নিকট সম্মানিত। বয়োজ্যেষ্ঠরাও তাঁকে সম্মান করত। তাঁর মুখের উপর কথা বলে এমন হিম্মত ঐ সমাজের কারো ছিল না। কিন্তু যখনই কলেমার দাওয়াত দেওয়া শুরু করলেন তখনই শুরু হয়ে গেল চরম বিরোধিতা। যারা তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার হিম্মত রাখত না তারাও শুরু করল উপহাস করা। সালাহরত অবস্থায় তাঁর মাথার উপর উটের নাড়ি-ভুড়ি চাপিয়ে দেওয়া হলো, তাঁকে নানা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হলো। কিন্তু তিনি সত্যের উপর রইলেন পর্বতের মতো অনড়, অটল। কোনোভাবেই যখন তাঁকে দমিয়ে রাখা যাচ্ছিল না তখন কুরাইশ নেতারা তাঁকে প্রস্তাব দিল- আরবের রাজত্ব, অর্থ-বিত্ত ও সুন্দরী নারী সব দেওয়া হবে যদি তিনি এই কলেমার বালাগ বন্ধ করে দেন। রসুলাল্লাহ (সা.) তাদের এই প্রস্তাবের জবাবে সেদিন বলেছিলেন, “আমার এক হাতে যদি চন্দ্র ও আরেক হাতে সূর্যও এনে দাও তবু মোহাম্মদ এই পথ (কলেমার পথ, সত্যের পথ) ছাড়বে না, হয় আল্লাহর বিজয় হবে না হলে এই রাস্তায় মোহাম্মদ শহীদ হয়ে যাবে।”

নব্যুয়তের সপ্তম বছরে যখন রসুলাল্লাহ (সা.) ও তাঁর আসহাবদের সাথে তাঁর গোত্র বনু হাশিমের লোকদেরকে শিয়াব’এ আবু তালিব-এ বন্দী করে রাখা হয় তখন তাঁদের দিন কেটেছে অনাহারে-অর্ধাহারে। কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়তে হয়েছে তাঁদের। এমনও হয়েছে যে, কেবল গাছের লতা-পাতা খেয়ে কাটাতে হয়েছে দিনের পর দিন। পুষ্টিহীনতায় মায়েদের বুকে দুগ্ধ হয়নি, শিশুরা মারা গেছে বাবা-মায়ের চোখের সামনে। এই অবস্থা চলেছে তিন বছর। এই শিয়াব’এ আবু তালিবের বন্দী দশা থেকে মুক্তি পাবার পর আম্মা খাদিজা (রা.) পুষ্টিহীনতার কারণে ইন্তেকাল করেছেন। একই বছরে রসুলাল্লাহর (সা.) চাচা আবু তালিবকেও হারান। এরপর তায়েফে যান দীনের দাওয়াত নিয়ে, কিন্তু সেখানে শুধু প্রত্যাখ্যাতই হননি বরং চরমভাবে তাঁকে অত্যাচার করা হয়। পাথরের আঘাতে আঘাতে তাঁকে রক্তাক্ত করা হয়, বার বার তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন আবার জ্ঞান ফিরে হেঁটেছেন। এভাবে মক্কার ১৩ টি বছর কেটেছে অত্যাচার-নির্যাতন, অভাব-দারিদ্র নিয়ে। কিন্তু একটি মুহূর্তের জন্যও দীনের খেদমত থেকে তিনি পিছপা হননি, শিরক ও কুফরের সামনে মাথা নত করেননি। এরপর যখন তিনি মদীনায় আসলেন তখন তাঁকে মদীনার সমাজের প্রধান হিসাবে সকলে গ্রহণ করে নিল। মদীনাকে তিনি তৈরি করলেন এক আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র হিসাবে। কিছুদিনের মধ্যে শুরু হলো চতুর্দিকে অভিযান, যুদ্ধ, কেতাল। যুদ্ধ মানেই জীবনের ঝুঁকি, যুদ্ধ মানেই জীবন ও সম্পদের অসম্ভব কোরবানি। মাদানী জীবনের ১০ টা বছর রসুলাল্লাহকে (সা.) নিরন্তর কেবল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়েছে, কেননা তাঁর লক্ষ্য ছিল সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর দেওয়া হেদায়াহ ও সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করা। সামান্য ১০ বছরের এই সময়ে তিনি ছোট-বড় দিয়ে ১০৭টি অভিযান পরিচালনা করেন, ২৭ টি যুদ্ধাভিযানে তিনি স্বয়ং উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন। উহুদ যুদ্ধে তিনি চরমভাবে আহত হয়েছেন, মাথার মধ্যে হেলমেট ঢুকে গিয়েছে, কয়েকটা দাঁত ভেঙ্গে গেছে, মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন, তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রচার করেছে মোশরেকরা। কিছু নিবেদিতপ্রাণ সাহাবাদের অসম্ভব কোরবানির বিনিময়ে কাফের-মোশরেকরা রসুলাল্লাহ (সা.) কাছে পৌঁছুতে পারেনি। আহযাবের যুদ্ধে পরিখা খননে নিজে অংশগ্রহণ করেছেন, প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়েও কাজ করেছেন পেটে পাথর বেঁধে। তিনি তাঁর জীবদ্দশাতেই ৩২ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার ভূখণ্ডে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা করে রেখে গেছেন। এত সংগ্রাম, এত যুদ্ধ জয়, এত ভূখণ্ড জয় করার পরও তাঁর ইন্তেকালের সময় সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না, কেবল ছিল ৯ টি তরবারিসহ কয়েকটা যুদ্ধাস্ত্র আর চাটাইয়ের পাটি, খেজুরের খোসা ভর্তী বালিশ। এ থেকেই বোঝা যায় তাঁর জীবনে তিনি কেমন কোরবানি করেছেন। তিনি নিজের জীবনটাকে কোরবানি করার জন্য এমনভাবে আকাক্সক্ষা করেছেন যে, তিনি বলেন, আমার উপর যদি নব্যুয়তের মহান দায়িত্ব না থাকত তাহলে আমি আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করতে করতে শহীদ হয়ে যেতাম, আবার আল্লাহ আমাকে জীবিত করে দিতেন আমি আবার শহীদ হতাম- এভাবে চারবার শহীদ হবার আকাক্সক্ষা পোষণ করেছেন। এই কোরবানি, এই ত্যাগের মাধ্যমেই তিনি আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়েছেন। জীবন-সম্পদের এই অপরিসীম কোরবানির পাশাপাশি তিনি পশু কোরবানিও করেছেন। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘একদা রসুলাল্লাহ (সা.) দুটি ধুসর বর্ণের শিংওয়ালা দুম্বা কোরবানি করছিলেন। তিনি ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে তা নিজ হাতেই জবাই করেছিলেন। হজরত আনাস বলেন, আমি মহানবীকে (সা.) এর পাঁজরের ওপর পা রাখতে দেখেছি এবং জবাই করার সময়ে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলতে শুনেছি (সহিহ মুসলিম)।

আমাদের জন্য শিক্ষা:
আমরা কোরবানির অর্থ বুঝি কেবল বছরের একটা নির্দিষ্ট দিনে পশু জবাই দেওয়া। সেই পশু জবাই করা কোরবানিটাও রসুলাল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ অনুসারে পালন করি না। তিনি নিজ হাতে পশু কোরবানি করতেন কিন্তু আমরা মোল্লা ভাড়া করে পশু কোরবানি করি। আমাদের সমাজে কোরবানি হয়ে গেছে এক প্রকার শো-আফ, কে কত বড় কোরবানি দিতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলে, আর কোরবানির গোস্ত ফ্রিজে রেখে সারা বছর সেটা ভক্ষণ চলে। কিন্তু রসুলাল্লাহ (সা.) এর জীবনী থেকে আমরা দেখতে পাই কীভাবে তিনি নিজের জীবন ও সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় অকাতরে বিলিয়ে গেছেন, কীভাবে তিনি দীনের কাজ করে গেছেন। এখন আমরা যদি সত্যকার অর্থে তাঁর অনুসরণ করতে চাই তাহলে আমাদেরকেও আল্লাহর দীন কায়েমে নিজেদের জীবন ও সম্পদ এভাবেই উৎসর্গ করতে হবে, কোরবানি করতে হবে। এই কোরবানির মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারব, মোর্কারাবুন হতে পারব ইনশাল্লাহ।

[লেখক: সদস্য, সাহিত্য ও গবেষণা বিভাগ, হেযবুত তওহীদ]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
 ১ মে ২০২৬    HT All Article

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমিয়েছে চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন
চীনে প্রতি ১০ কর্মদিবস অন্তর বৈশ্বিক তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে এখন চালকদের প্রায়…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    মতামত

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!
কথক দা: আমরা যেন আইয়্যামে গুজবে বাস করছি। অপতথ্য আর অপসংবাদের ভীড়ে কোনটা সত্য আর কোনটা অর্ধসত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা বোঝা খুবই মুশকিল। একসময়…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান
এম আর হাসান:খুররম খান পন্নী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এই তিনটি…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?
শাহাদৎ হোসেন:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ
ওবায়দুল হক বাদল:আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব খাতে ২ লাখ…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?
মুস্তাফিজ শিহাব:বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এক চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে রয়েছে বিপুল জনশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে চরম অবমাননা…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article