
দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত উত্তরাঞ্চলে কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সনাতন পদ্ধতির বদলে এখন স্মার্ট সেন্সর, ড্রোন এবং স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে চাষাবাদ করছেন প্রান্তিক কৃষকরা। এই প্রযুক্তির ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমেছে, অন্যদিকে ফলন বেড়েছে বহুগুণ।
আগে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব বা পোকামাকড়ের আক্রমণে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। কিন্তু এখন ড্রোনের মাধ্যমে ফসলের মাঠের ছবি তুলে সফটওয়্যারের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর ফলে কোথায় সার বা কীটনাশক প্রয়োজন, তা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে। মাটি পরীক্ষক সেন্সরগুলো কৃষকদের মোবাইল ফোনে জানিয়ে দিচ্ছে কখন জমিতে সেচ দিতে হবে, যা পানির অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ শিক্ষিত যুবকরা এখন কৃষিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা এই খাতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। সরকার কৃষকদের এই আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনায় বিশেষ ভরতুকি এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করেছে। উত্তরাঞ্চলের এই স্মার্ট কৃষি মডেল যদি দেশের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই কৃষিপণ্য রপ্তানিতে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।
