প্রচ্ছদ    HT All Article   শিক্ষক জাতির আজ কেন এই...

শিক্ষক জাতির আজ কেন এই হীনম্মন্যতা?

২৮ ডিসেম্বর ২০১৫ ১১:৪১ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক
মোহাম্মদ আসাদ আলী

প্রকৃত ইসলাম পৃথিবীর কোথাও নেই। আল্লাহর রসুলের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসা দীনুল হক, সত্য জীবনব্যবস্থা তার প্রকৃত আদর্শ, স্বকীয়তা এবং যথার্থতা হারিয়ে তথাকথিত একটি ধর্মবিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। শত মত-পথ-তরীকার আড়ালে সত্যদীন হারিয়ে গেছে। সেই সাথে হারিয়ে গেছে মহামূল্যবান আকীদা যে আকীদা ছাড়া ঈমানের কোনো দাম নেই। প্রকৃত ইসলামের জ্ঞান অর্জনের যে গুরুত্ব সেই সম্পর্কেও আকীদা বিকৃত হয়ে গেছে। গোঁড়ামীর কারণে জ্ঞানকে সীমিত রাখা হয়েছে আরবী ভাষা ও ব্যাকরণের ভেতরে। ধর্মের তথাকথিত আলেম মাওলানারা মাদ্রাসা-মক্তবে যে ফতোয়াবাজী শিক্ষা করে থাকেন তাই তারা প্রকৃত ও একমাত্র জ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করেন এবং সেটাকে বিক্রি করে নিজেদের পেট চালান। শুধু তাই নয়, তাদের একটি বিরাট অংশ রোয়েছেন যারা এই ফতোয়াবাজির বাইরে অন্য কোনো জ্ঞান যেমন- ভূগোল, গণিত, বিজ্ঞান, সাম্প্রতিক বিশ্ব ইত্যাদিকে শয়তানের জ্ঞান হিসেবে প্রচার করেন। তাদের সেই বিকৃত আকীদার কবলে পড়ে বর্তমান মোসলেম নামধারী জাতিটির একটি বিরাট অংশ আজ অজ্ঞতা, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, কুসংস্কার ইত্যাদিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। পৃথিবী যেখানে নতুন নতুন আবিষ্কার, প্রযুক্তিতে একের পর এক ইতিহাস সৃষ্টি করে চোলেছে, মানুষ লক্ষ লক্ষ মাইল দূরের চাঁদের দেশ থেকে ঘুরে আসছে, গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ছোটাছুটি কোরছে, নদীর স্রোতকে বেঁধে চাকরের মতো কাজ করাচ্ছে, সমুদ্রের তলদেশ থেকে খনিজ সম্পদ বের করে আনছে তখন মোসলেম নামধারী এই জাতিটি বদনা হাতে মাথায় টুপি, পরণে আরবীয় পোশাক আর হাতে তসবীহ নিয়ে মসজিদে, হুজরায়, খানকায়, মাদ্রাসার চার দেয়ালের অভ্যন্তরে বসে প্রশ্ন কোরছে টিভি দেখা, গান শোনা জায়েজ কি নাজায়েজ! এটাই কি প্রকৃত ইসলামের আকীদা? আল্লাহর রসুল মোহাম্মদ (দ:) কি ধর্মীয় জ্ঞান তালাশ করাকেই ফরদ বোলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি কি তাঁর জাতিকে এরকম ধর্মান্ধ, গোঁড়া, অজ্ঞ, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন থাকার শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিলেন?
জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মোসলেমদের অবদান:
মুসলিম হিসেবে অবশ্যই হাদীস-কোরানের জ্ঞান থাকতে হবে, কিন্তু বাইরের জ্ঞানার্জনকে প্রত্যাখ্যান করে নয়। আমাদের আদর্শ হচ্ছেন রসুলাল্লাহ, আর আদর্শ জাতি হোল রসুলাল্লাহর হাতে গড়া জাতিটি যারা রসুলাল্লাহর সাথে থেকে প্রকৃত ইসলাম শিক্ষা করেছিলেন। রসুলাল্লাহর সাথে থেকে যারা ইসলাম শিখেছিলেন তাদের ইতিহাস তো অন্য রকম। আল্লাহর রসুলের ওফাতের পরপরই তাঁর অর্পিত দায়িত্ব যখন তাঁর হাতে গড়া জাতিটির কাঁধে এসে পড়লো তখন তারা অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আরব থেকে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাইরে বেরিয়ে পড়লেন এবং একের অসম সামরিক যুদ্ধে পর এক বিজয় অর্জন কোরতে লাগলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তৎকালীন অর্ধপৃথিবীতে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ভিত্তিক সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। উম্মতে মোহাম্মদী তখন সমস্ত পৃথিবীর মডেল। সত্যদীন তখন ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে দ্বিগি¦দিক আমোদিত করে তুলছে। শিক্ষা-দীক্ষা, চিকিৎসা, দর্শন, বিজ্ঞান সর্বদিক মুসলিমরা সমস্ত পৃথিবীর শিক্ষকের আসনে অধিষ্ঠিত হন। ক্রমেই নতুন নতুন আবিষ্কার, শিক্ষা-দীক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ইত্যাদিতে তারা অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ কোরতে থাকেন। তাদের তৈরি করা ভিত্তির উপর গড়ে ওঠা মুসলিম সভ্যতা বিশ্বের উন্নতির সর্ববিভাগে বহু আবিষ্কারের জনক হয়ে আছে।
বিজ্ঞান বিভাগে দৃষ্টি দিলেই দেখা যায়, রসায়ন বা কেমিষ্ট্রির জন্মদাতা মুসলিম। রসায়নের ইতিহাসে জাবিরের (৭২২-৮০৪) নাম সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। বীজগণিতের জন্মদাতা বলা হয় আল খোয়ারেজমীকে (৭৮০-৮৫০)। বন্দুক, বারুদ, কামান, প্রস্তর নিক্ষেপণ যন্ত্রের আবিষ্কারও মুসলিমদেরই অবদান। যুদ্ধের উন্নত কৌশল ও বারুদ বা আগ্নেয়াস্ত্র সম্বন্ধে বিখ্যাত আরবী গ্রন্থ তাঁরাই লিখেছেন বিশ্ববাসীর জন্য। সেটির নাম ‘আলফুরুসিয়া ওয়াল মানাসিব উল হারাবিয়া’। ভূগোলেও মুসলিমদের অবদান এত বেশী যা জানলে অবাক হতে হয়। ৬০ জন মুসলিম ভূগোলবিদ পৃথিবীর প্রথম যে মানচিত্র এঁকেছিলেন তা আজও বিশ্বের বিস্ময়। এর আরবী নাম হচ্ছে ‘সুরাতুল আরদ’ অর্থাৎ বিশ্বের আকৃতি। এবনে ইউনুসের অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমা মণ্ডল নিয়ে গবেষণার ফল ইউরোপ মাথা পেতে নিয়েছিল। ফরগানী, বাত্তানি (৮৫৮-৯২৯) ও আল খোয়ারেজমী প্রমুখের ভৌগোলিক অবদান স্বর্ণমণ্ডিত বলা যায়। কম্পাস যন্ত্রের আবিষ্কারকও মুসলিমরাই। তাঁর নাম এবনে আহমদ। জলের গভীরতা ও সমুদ্রের স্রোত-মাপক যন্ত্রের আবিষ্কারক এবনে আবদুল মাজিদ। বিজ্ঞানের উপর যে সব মূল্যবান প্রাচীন গ্রন্থ পাওয়া যায় আজও তা বিজ্ঞান জগতের পুঁজির মত ব্যবহৃত হচ্ছে। বিজ্ঞানের উপর গবেষণামূলক ২৭৫ টি পুস্তক যিনি একাই লিখেছেন তিনি হচ্ছেন আলকিন্দি (৮০১-৮৭৩)। প্রাচীন বিজ্ঞানী হাসান, আহমদ ও মুহম্মদ সম্মিলিতভাবে ৮৬০ সনে বিজ্ঞানের একশত রকমের যন্ত্র তৈরীর নিয়ম ও ব্যবহার প্রণালী এবং তাঁর প্রয়োজন নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে গেছেন।
রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের এক হাজার বছর আগে মুসলিম কবি, জ্যোতির্বিদ, সঙ্গীত শিল্পী এবং প্রকৌশলী আব্বাস ইবনে ফারনাস নিজস্ব আবি®কৃত বিমানের সাহায্যে আকাশে ওড়ার চেষ্টা করেন। ৮৫২ সনে তিনি স্পেনের কর্ডোবা মসজিদের মিনারের উপর থেকে তার আবি®কৃত যন্ত্রসহ লাফিয়ে পড়েন। উড়তে না পারলেও ধীর গতিতে মাটিতে অবতরণ করেন। তার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্যারাস্যুট আবিষ্কৃত হয়। ৮৭৫ সনে ৭০ বছর বয়সে তিনি আরেকবার লাফিয়ে পড়েন পাহাড়ের চূড়া থেকে এবং বেশ খানিকটা দূরত্ব উড়তে সক্ষম হন। তিনি ১০ মিনিট আকাশে ভেসে থাকেন। ইবনে ফারনাসের নামে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের একটি অগ্নিগিরির জ্বালামুখের নাম করা হয়েছে।
চার্লস ডারউইন পশু-পাখি, লতা-পাতা নিয়ে গবেষণা করে পৃথিবীতে প্রচার করেছেন ‘বিবর্তনবাদ’। কিন্তু তারও পূর্বে যিনি এ কাজ করার রাস্তা করে গেলেন এবং ইতিহাসে সাক্ষ্য রেখে গেলেন, তিনি হচ্ছেন আল আসমাঈ। তাঁর বইগুলো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। মুসলিমরাই প্রথম চিনি তৈরী করেন। তাছাড়া তুলা থেকে তুলট কাগজ প্রথম সৃষ্টি করেছেন ইউসুফ এবনে উমর। তার দু’বছর পর বাগদাদে কাগজের কারখানা তৈরী হয়।
জাবীর ইবনে হাইয়ান একাই ইস্পাত তৈরি, ধাতুর শোধন, তরল বাষ্পীকরণ, কাপড় ও চামড়া রং করা, ওয়াটার প্র“ফ আরস্তরণ তৈরি করা, লোহার বার্নিশ, চুলের কলপ ও লেখার পাকা অমোচনীয় কালী আবিষ্কার করে অমর হয়ে রোয়েছেন। ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড থেকে কাচ তৈরির প্রথম ধারণা দেন মুসলিম বিজ্ঞানী ‘আল রাজী’ (৮৬৫-৯২৫)। ইংরেজদের ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর নাম লেখা হয় জধুবং. একদিকে দীনের জ্ঞানে তিনি ছিলেন বিরাট আলেম অপরদিকে ছিলেন গণিতজ্ঞ ও চিকিৎসা বিশারদ। সোহাগা, লবণ, পারদ, গন্ধক, আর্সেনিক ও সালমিয়াক নিয়ে তাঁর লেখা ও গবেষণা উল্লেখযোগ্য। আরও মজার কথা, পৃথিবীতে প্রথম পানি জমিয়ে বরফ তৈরি করাও তাঁর অক্ষয় কীর্তি। ইউরোপ পরে নিজের দেশে বরফ প্রস্তুত কারখানা চালু করে।
পৃথিবী বিখ্যাত গণিত বিশারদের ভিতর ওমর খৈয়ামের (১০৪৮-১১৩১) স্থান উজ্জ্বল রত্নের মত। ঠিক তেমনি নারিরুদ্দিন তুসী এবং আবু সিনার নামও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আকাশ জগত পর্যবেক্ষণ করার জন্য বর্তমান বিশ্বেরর মানমন্দির আছে ব্রিটেনে এবং আমেরিকায় কিন্তু কে বা কারা এগুলোর প্রথম আবিষ্কারক প্রশ্ন উঠলে উত্তর আসবে হাজ্জাজ ইবনে মাসার এবং হুনাইন ইবনে এসহাক। এঁরাই পৃথিবীর প্রথম মানমন্দির আবিষ্কারক। সেটা ছিল ৭২৮ খ্রিস্টাব্দ। ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জন্দেশপুরে দ্বিতীয় মানমন্দির তৈরি হয়। বাগদাদে হয় তৃতীয় মানমন্দির। দামেস্ক শহরে চতুর্থ মানমন্দির তৈরি করেন আল-মামুন।
আর ইতিহাসের ঐতিহাসিকদের কথা বোলতে গেলে মুসলিম অবদান বাদ দিয়ে তা কল্পনা করাই মুশকিল। এমনকি, মুসলিম ঐতিহাসিকরা কলম না ধোরলে ভারতের ইতিহাস হয়তো নিখোঁজ হয়ে যেত। অবশ্য ইংরেজ ঐতিহাসিকদের সংখ্যাও কম নয়। তবে একান্তভাবে মনে রাখা দরকার: ইতিহাসের স্রষ্টা বিশেষতঃ মুসলিমরা। তার অনুবাদক দল ইংরেজ ঐতিহাসিকরা। মুসলিম ঐতিহাসিকদের মধ্যে আল বিরুনি, ইবনে বতুতা, আলী বিন হামিদ, বায়হাকীম, উতবি, কাজী মিনহাজ উদ্দিন সিরাজ, মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ ঘুরী, জিয়াউদ্দিন বারনী আমীর খসরু, শামসী সিরাজ, বাবর, ইয়াহিয়া-বিন-আহমদ, জওহর, আব্বাস শেরওয়ানী, আবুল ফজল, বাদাউনি, ফিরিস্তা, কাফি খাঁ, মীর গোলাম হোসাইন, হুসাইল সালেমী, সাঈদ আলী প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এঁদের লিখিত মূল ইতিহাস গ্রন্থগুলির নামের তালিকা এত দীর্ঘ যে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতির আশঙ্কায় উল্লেখ কোরলাম না।
জ্ঞানসাধনায় মুসলিম নারীদের অবস্থান:
রসুলাল্লাহর সময়ের নারীরা যে কবিতা, কাব্য সাহিত্য এবং কোরান-হাদীসের যে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন সেকথা অনেকেরই জানা আছে। যেমন রসুলাল্লাহর স্ত্রী আয়েশা (রা:) ছিলেন একজন উচ্চস্তরের হাদীসবিদ ও বিদূষী। স্পেন দেশে ইসলামী সভ্যতা যখন পৌঁছালো তখন শুধু পুরুষরাই জ্ঞানচর্চায় এগিয়ে ছিলেন তাই নয় বরং মেয়েরাও অনগ্রসর ছিলেন না। যেমন বিখ্যাত মহিলা লাবানা, ফাতেমা, রাজেয়া, আয়েশা, খাদেজা প্রভৃতি। কেউ যেন মনে না করেন যে তাঁরা রসুলাল্লাহর স্ত্রী-কন্যা। তাঁরা ছিলেন তাঁর সত্যনিষ্ঠ অনুসারী, মোসলেম। রসুলাল্লাহর ভক্ত হিসেবেই তাঁদের পিতা-মাতারা তাদের ঐ নামগুলো রেখেছিলেন। অর্থাৎ তাঁরা তাদের নেতার আদেশকে বাস্তবায়নের জন্যই জ্ঞানচর্চা কোরতেন। এমনিভাবে রাদেয়া নামের এক সুপণ্ডিত মহিলা ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। যেহেতু তখনও বই ছাপার প্রেস আবিষ্কৃত হয়নি তাই হাতে লেখার উপরই নির্ভর কোরতে হোত জ্ঞান অনুসন্ধানকারীদের। জ্ঞানী পুরুষদের বাড়ির মেয়েরা সে কাজে সহযোগিতা কোরতেন। এতে করে পুরুষদের চেয়েও মেয়েদের লেখার দক্ষতা তৈরী হোত অনেক বেশী। তাছাড়া একই জিনিস বারবার লেখার কারণে তা খুব ভালোভাবে স্মরণে থাকতো যা তারা পরবর্তীতে কাজে লাগাতেন। সে যুগে মেয়েরা বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া কোরত যার প্রমাণও ইতিহাসে রোয়েছে। এখানে মনে রাখতে হবে তখন বর্তমানের মতো বিদ্যালয় ছিল না। পুরো জনপদ মিলে হয়তবা একটিমাত্র বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা ছিল আর সেখানেই ছেলে-মেয়ে সকলেই লেখাপড়া কোরত। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারীশিক্ষার ভিত্তি রচনা হয় সেই যুগের মোসলেমদের হাত ধোরেই। পুরাতন আরবী সাহিত্য ও পুঁথিতে তার প্রমাণ আছে। যেমন- সালমা নামে এক বালিকার বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং দোয়াতে কলম ডুবিয়ে কালি নিয়ে খেলার উল্লেখ আছে। সুতরাং বোঝা যায় বিদ্যালয়ে, কলম ও দোয়াতের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল। (ডক্টর হামিদুল্লাহর লেখা ‘আহদে নববী কা নেযামে তালিম’ পৃষ্ঠা ৯)
এই ইতিহাস আর বর্তমানে সঠিক জায়গায় নেই। কুচক্রীদের চক্রান্তের শিকারে এবং মোসলেমদের হীনমন্যতার সুযোগে এই ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। মোসলেমরা তার স্বর্ণযুগে যে জ্ঞানবিজ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণ করে গেছেন তার উপরেই যে আজকের পশ্চিমা সভ্যতার যান্ত্রিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান দাঁড়িয়ে আছে তা আজকের মোসলেম নামধারী জাতির ক’জনই বা বিশ্বাস কোরবে। খ্রিস্টানদের তৈরি শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশুনা করে তাদের ভিতরে সৃষ্টি হয়ে স্বীয় জাতির প্রতি নিদারুণ হীনমন্যতা আর পাশ্চাত্য প্রভুদের শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা। তারা জানেন, মোসলেম জাতির ইতিহাস বর্বরতার ইতিহাস, পাশবিক ভোগবিলাস আর শিয়াল কুকুরের মত রাজ্য নিয়ে কামড়া-কামড়ির ইতিহাস। পশ্চিমারা তাদেরকে এর বেশী কিছু জানতে দেয় নি। তবে যারা সত্যানুসন্ধী নিয়ে বিজ্ঞানের ইতিহাস পড়বেন তারা আজও জ্ঞানের প্রতিটি অঙ্গনে মোসলেম শিক্ষকদের পদচিহ্ন খুঁজে পাবেন। এ জাতিকে মাথা এখন উঁচু করে দাঁড়াতে হলে নিজেদের প্রকৃত অতীত জানা অত্যন্ত জরুরি।
[তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট এবং আল্লামা গোলাম আহমাদ মোর্তজার ‘চেপে রাখা ইতিহাস’]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
 ১ মে ২০২৬    HT All Article

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমিয়েছে চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন
চীনে প্রতি ১০ কর্মদিবস অন্তর বৈশ্বিক তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে এখন চালকদের প্রায়…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    মতামত

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!
কথক দা: আমরা যেন আইয়্যামে গুজবে বাস করছি। অপতথ্য আর অপসংবাদের ভীড়ে কোনটা সত্য আর কোনটা অর্ধসত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা বোঝা খুবই মুশকিল। একসময়…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান
এম আর হাসান:খুররম খান পন্নী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এই তিনটি…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?
শাহাদৎ হোসেন:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ
ওবায়দুল হক বাদল:আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব খাতে ২ লাখ…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?
মুস্তাফিজ শিহাব:বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এক চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে রয়েছে বিপুল জনশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে চরম অবমাননা…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article