প্রচ্ছদ    HT All Article   রোজার উদ্দেশ্য কতটুকু সফল?

রোজার উদ্দেশ্য কতটুকু সফল?

২১ মার্চ ২০২৬ ০৭:০৮ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

সুয়াইবুল বান্না সহি:
আল্লাহ সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতে বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সওম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারো।” এই আয়াতে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যনীয়। আল্লাহ প্রথমেই বলেছেন, “ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু”, অর্থাৎ ‘হে ঈমানদারগণ’ বা ‘হে মুমিনগণ’। অর্থাৎ সওম/রোজার যে বিধান তা ঈমানদার মুমিনদের জন্য। সওমের বিধান আল্লাহ কেন দিয়েছেন- সেটাও তিনি বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যাতে তোমরা তাকওয়াহ অবলম্বন করতে পারো’। আয়াতটিতে আল্লাহ এ-ও বলে দিলেন যে, ‘তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্যও এটা ফরজ করে দেওয়া হয়েছিল’। মানে পূর্বের উম্মাহর জন্যও এটা ফরজ ছিল।

প্রথমেই আমাদেরকে বুঝতে হবে সওম কেন? সওমের উদ্দেশ্যটা কী? আমরা রোজা কেন রাখবো? আমাদের রোজা রাখার দরকার কি? এইযে যেকোন আমলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা- এই উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানার নামই আকিদা। আকিদা যদি ভুল হয় ঈমানও ভুল, আমলও ভুল। সুতরাং সওম বা রোজার আকিদা সম্পর্কে আমাদেরকে পরিষ্কার হতে হবে।

আমরা সবাই জানি, ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি, যা হাদীস অনুযায়ী ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। রসুলাল্লাহ (সা.) বলেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের ওপর স্থাপিত। পাঁচটা পিলার। পাঁচটা বুনিয়াদের উপরে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। যার প্রথমেই আছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)’। দ্বিতীয় হলো সালাহ। তৃতীয় যাকাত। চতুর্থ হজ। পঞ্চম বা সর্বশেষে আছে সওমে রমাদান। এই যে সওম এটা কিন্তু ইসলামের পঞ্চম পিলার।

আরও পড়ুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

এখন আসি এই সওমের উদ্দেশ্যটা কী? একজন মানুষ যদি একটা গাড়ির উদ্দেশ্য না জানে তাহলে সে একটা চাকার উদ্দেশ্যও বুঝবে না। সে যখন বুঝবে যে একটা গাড়ির উদ্দেশ্য হচ্ছে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় মানুষ ও মালামাল পরিবহন করা; তখন সে গাড়ির ভেতরের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বা তার অংশগুলোর কোনটার কি উদ্দেশ্য তাও পরিষ্কার হয়ে যাবে। গাড়ির ভেতরের প্রতিটা যন্ত্রাংশ একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত, কানেক্টেড, রিলেটেড। এই যন্ত্রাংশগুলোর কোনোটাই বিচ্ছিন্ন নয় বরং একে অন্যের সাথে কানেক্টেড- এই ব্যাপারটাই হলো ‘আকদ’। ‘আকদ’ থেকেই আকিদা শব্দের উৎপত্তি। আকদ মানে গিট বা গিরু।

এখন প্রশ্ন হলো- সম্পর্কটা কোন জায়গায়! সালাতের সাথে ঈমানের সম্পর্ক কোথায়, ঈমানের সাথে সওমের সম্পর্ক কোন জায়গায়, সওমের সাথে ঈমানের কী সম্পর্ক, হজের সাথে ঈমানের কী সম্পর্ক- এটা জানার নামই আকিদা। এটা যদি আপনি মিলাতে না পারেন তাহলে আপনার কিন্তু বিচ্ছিন্ন আমলের কোন মূল্য থাকবে না। একইভাবে ইসলামের উদ্দেশ্য যারা বুঝবেন না তাদেরকে সওমের উদ্দেশ্য বোঝানো যাবে না।

সওম শব্দের অর্থ হলো- সেলফ কন্ট্রোল, আত্মসংযম, সংযমতা অবলম্বন করা। আমরা যে ‘রোজা’ শব্দটা বলি এই শব্দটা কিন্তু কোর’আনে নেই। রোজা হলো ফারসি ভাষার শব্দ। পারস্যরা অগ্নি উপাসক ছিল। তারা উপবাস থাকতো। ওই উপবাসটাকে তারা বলত রোজা। কিন্তু আমাদের কোর’আনে যে সওমের কথা বলা হয়েছে এটার অর্থ কিন্তু ব্যাপক, এর মানে হলো কন্ট্রোল, সংযম, নিয়ন্ত্রণ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ।

আজ মুসলিম বিশ্বে সওমকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। লক্ষ কোটি মুসলমান সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকছেন। অনেক বৃদ্ধ ও শিশুদেরকেও আমরা সওম রাখতে দেখি। মোট কথা সওমের মাধ্যমে মুসলমানগণ আল্লাহর প্রতি তাকওয়া অবলম্বন করছেন। পুরো রমজান মাসে একটাও সওম ভাঙেন না।

এখানে রাসুলাল্লাহর (সা.) একটা হাদিস স্মরণ করতে চাই যেখানে তিনি বলেন, এমন একটা সময় আসবে মানুষ তাহাজ্জুদ পড়বে, তা হবে ঘুম নষ্ট করা। আর রোজা রাখবে, যা হবে শুধুমাত্র উপবাস বা না খেয়ে থাকা। এ কথাটি অত্যন্ত মারাত্মক। এখানে অনেক কিছু বুঝার আছে। প্রথমত, শুধুমাত্র মোকাম্মেল ঈমানদার ছাড়া সবাই কিন্তু তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে না। দ্বিতীয় কথা হলো- রোজা কে রাখে? রোজা রাখার ক্ষেত্রে কোন রিয়া কাজ করে না। যারা আল্লাহকে সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করে, যাদের অন্তরে সত্যিকারের আল্লাহভীতি রয়েছে, যারা প্রকৃত ঈমানদার শুধুমাত্র তারাই কিন্তু রোজা রাখে।

জেহাদের মধ্যে লোক দেখানোর ব্যাপার আছে। জেহাদের ময়দানে শহীদ হলে লোকেরা বীর বলবে। দানের ক্ষেত্রেও লোক দেখানোর ব্যাপার আছে। লোকেরা দানবীর বলবে। এমনকি নামাজের ক্ষেত্রেও কিন্তু লোক দেখানোর ব্যাপার আছে। কিন্তু রোজার মধ্যে লোক দেখানোর কোন ব্যাপার নাই। একেবারে যারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে বিশ্বাস করেন তারা রোজা রাখেন। সেই রোজা হবে না! কেন হবে না?

ঘুরেফিরে সেই কথায় আসি- আপনি যদি ইসলামের উদ্দেশ্য না বুঝেন তাহলে রোজার উদ্দেশ্য বুঝবেন না। ইসলামের উদ্দেশ্য কি? ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া একটা জীবন ব্যবস্থা (দীনুল হক্ব)। এটা রসুলকে (সা.) আল্লাহ দিয়েছেন। এই দীনুল ইসলামের উদ্দেশ্য হচ্ছে এটাকে কায়েম করে, প্রতিষ্ঠা করে, এটাকে কার্যকরী করা। এই দীনের নকশা হল কোর’আন; আল্লাহর বিধান। পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এটাকে কার্যকরী করে এটাকে কায়েম করে রাষ্ট্রীয় জীবন, সামাজিক জীবন তথা জীবনের সকল অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করাই এর উদ্দেশ্য। ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে আপনার আদালত চলবে আল্লাহর বিধানে, আপনার অর্থনীতি চলবে আল্লাহর হুকুমে, আপনার সমাজ চলবে আল্লাহর হুকুমে অর্থাৎ পুরো রাষ্ট্র চলবে আল্লাহর বিধানে।

আল্লাহর এই দ্বীন কায়েম করে সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার, সুবিচার প্রতিষ্ঠা করাই প্রধান কাজ। শান্তি প্রতিষ্ঠা হলে তবেই এই দীনের নাম ‘ইসলাম’ শব্দটি বাস্তব রূপ পায়। সেই শান্তির রূপটা কেমন! ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে মানুষ রাতে দরজা খোলা রেখেই ঘুমাবে, একজন মেয়ে মানুষ একা রাতের অন্ধকারে ভ্রমণ করবে তার মনে কোনো ভয় থাকবে না। মানুষের মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

মানুষ সৃষ্টির শুরুতেই যখন ইবলিশ চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল, আল্লাহ যখন আমাদেরকে খলিফা হিসেবে বানালেন তখন আল্লাহ বললেন সমস্ত ফেরেশতাদেরকে সেজদা করো, সবাই সেজদা করল। ইবলিশ সেজদা করলো না। তখন আল্লাহ বললেন সেজদা করলি না কেন? তখন ইবলিশ বলে ও মাটি আমি হচ্ছি আগুন। এই যে অহংকার করলো আল্লাহ তাকে বের করে দিলেন। তখন ইবলিশ একটা চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল তোমার দেওয়া এই খলিফাকে আমি সিরাতুল মুস্তাকিমে থাকতে দেব না।

আল্লাহ যখন মানুষ সৃষ্টি করেন তখন ইবলিশ আদমকে (আ.) সেজদাহ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তখনই আল্লাহর সাথে ইবলিশের একটা চ্যালেঞ্জ হয়েছিল। ইবলিশ বলেছিল, মানুষকে দিয়ে সে পৃথিবীতে অন্যায়, রক্তপাত, যুদ্ধ করাবে। আর আল্লাহ বলেন, তার একনিষ্ঠ বান্দাদের জন্য তিনি পথ প্রদর্শক পাঠাবেন এবং তারা কখনোই ইবলিশের দেখানো পথে যাবে না। তাহলে বুঝা যাচ্ছে এই দুনিয়াতে আমাদের কাজ হলো- আল্লাহকে বিজয়ী করে, আল্লাহর হুকুম কায়েম করে শান্তি কায়েম করার মধ্য দিয়ে ইবলিশকে পরাজিত করা। ইবলিশ যেন হেরে যায়। এখন প্রশ্ন আসে এই উদ্দেশ্য হাসিল করবে কে? উত্তর হলো- মুমিন। এই মুমিনদের একজন নেতা থাকবে। মুমিনরা একটা উম্মতে অন্তর্ভুক্ত হবে, যার নাম উম্মতে মোহাম্মদী। আর মুমিনরাই প্রাণ-সম্পদ দিয়ে জিহাদ করে এই পৃথিবীতে আল্লাহর দেওয়া দীন প্রতিষ্ঠা করবে। যেন মানুষ দরজা খুলে ঘুমাতে পারে। এটা হলো ইসলামের উদ্দেশ্য। এজন্যই নবীর (সা.) সংগ্রাম। এজন্যই কোর’আন নাযিল হয়েছে। এইজন্য নবী এতো লড়াই করেছেন।

কিন্তু এই কাজ কোনো সাধারণ কাজ নয়। এই কাজ করার জন্য মুমিনদের মধ্যে অনেকগুলো চারিত্রিক গুণাবলী দরকার, প্রশিক্ষণ দরকার, ট্রেনিং দরকার। এই প্রশিক্ষণের কোনোটা আধ্যাত্মিক, কোনোটা শারীরিক, কোনোটা মানসিক। এই প্রশিক্ষণ হিসেবেই আল্লাহ মুমিনদেরকে বিভিন্ন আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। আমলগুলো হচ্ছে মূলত মুমিনের প্রশিক্ষণ। যেমন একদল সেনাবাহিনী বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষিত করা হয়, ট্রেনিং দেওয়া হয়। কোনোটা তার শরীর সুঠাম করে, কোনোটা তার মনকে স্থির রাখে, তাকে পিটি করায়, প্যারেড করায়, ড্রিল করায়, এক্সারসাইজ করায়। এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা চৌকশ পারফেক্ট সৈনিক বানানো। যেন সে যুদ্ধ করে রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে পারে। আল্লাহর উদ্দেশ্য হচ্ছে একদল মুমিন ইবলিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, লড়াই করে, জিহাদ করে এই পৃথিবীতে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা করবে। এজন্য তার কিছু আধ্যাত্মিক চরিত্র দরকার। শারীরিক ফিটনেস দরকার। এটার জন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সালাহ, যাকাত, হজ, সাওম এই ব্যবস্থাগুলো রেখেছেন। যেমন সালাতের মাধ্যমে মুমিন কি শিখবে? পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শিখবে। কাতার সোজা করার মধ্য দিয়ে ভাতৃত্ব শিখবে। শৃঙ্খলা শিখবে, সোজা হয়ে দাঁড়াবে। নেতার আনুগত্য করার মধ্য দিয়ে, আনুগত্য শিখবে। কেবলামুখী হওয়ার মধ্য দিয়ে সে লক্ষ্যের ঐক্য ঠিক করবে। একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই বুঝা যাচ্ছে- শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, আনুগত্য, ঐক্য ইত্যাদি সালাতের মাধ্যমে শিক্ষা হচ্ছে। তাহলে সওমের মাধ্যমে কি শিক্ষা হচ্ছে? আপনি সারা বছর খাবেন একমাস আপনি খাবেন না। কন্ট্রোল করবেন। এই যে কন্ট্রোল- আমরা খাবো না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করব। এটার মাধ্যমে মানুষ তার আত্মার উপরে একটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। ক্ষুধা পিপাসা সহ্য করার একটা প্রশিক্ষণ হচ্ছে তার ভিতরে। সে যেন রণাঙ্গনে, সংগ্রামে, বাস্তব জীবনে, আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করার জন্য যে কোন ধরনের কষ্ট মোকাবেলা করতে পারে। সে যেন ভোগবাদী না হয়। কারণ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভোগের বিপরীত দিকে যেতে হবে, তথা ত্যাগ করতে হবে। তাহলে সওমের উদ্দেশ্য কি? রোজার উদ্দেশ্য কি? রোজার উদ্দেশ্য হলো- মুমিনের আধ্যাত্মিক চরিত্র গঠন। নৈতিক চরিত্র তৈরি।

এখন যেই মানুষটা ঈমান আনেনি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কারো হুকুম মানি না) কথার মধ্যে যে ব্যক্তি নাই। যেই লোকটা বাস্তব জীবনে ব্রিটিশের আইন মানে, মানুষের আইন মানে এবং যেই লোকের ইসলামের কোন উদ্দেশ্য নাই; তার রোজা রাখাটাই হল উপবাস থাকা। এইজন্য আজকে মুসলমান সমাজে রোজার কোন বাস্তব প্রতিফলন নাই। এজন্যই রসুল (সা.) বলেছেন, এমন এক সময় আসবে মানুষ তাহাজ্জুদ পড়বে, তা হবে ঘুম নষ্ট করা। রোজা রাখবে, সেটা হবে না খেয়ে থাকা। আজ যারা রোজা রাখছেন তাদের সকলের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা কষ্ট করে রোজার উদ্দেশ্যটা ভালো করে বুঝে নিবেন। এই বিষয়ে আমাদের একটা বই আছে ‘সওমের উদ্দেশ্য’। বইটা পড়ার আহ্বান থাকবে।

সওম রাখার আগে উদ্দেশ্য ভালো করে জেনে নিবেন। বুঝে নিবেন- আল্লাহ কেন সওম ফরজ করেছেন? আমি না খেয়ে থাকলে আল্লাহর কী উপকার? আসলে আল্লাহর কথা হল- ‘এখানে আমার (আল্লাহর) কিছু যায় আসে না। এখানে তাকওয়া হবে তোমার (বান্দার)। তোমার এই তাকওয়ার গুণাবলী লাগবে। কারণ ময়দানে সংগ্রামে আল্লাহর এই দীন প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব তোমার উপরে। এটা তুমি করতে হলে তোমার কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লাগবে, গুণাবলী লাগবে, কিছু ট্রেনিং লাগবে। সেই ট্রেনিং স্বরূপ এই রোজা’। এখন তোমার যদি দীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যই সামনে না থাকে তাহলে তোমার ওই রোজা রাখা হবে- না খেয়ে থাকা অর্থাৎ উপবাস থাকা। তাই সবার আগে ঈমান। সবার আগে আমাদেরকে মুমিন হতে হবে। আল্লাহর হুকুমের প্রতি শতভাগ আনুগত্যের অঙ্গীকার করতে হবে। তারপর সেই হুকুমের প্রতিষ্ঠা এবং এর জন্য আবশ্যকীয় চরিত্র। যা অর্জনের জন্য সওম বা রোজা। আল্লাহ সবাইকে সওমের প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করার সামর্থ্য দান করুন, আমিন।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
 ১ মে ২০২৬    HT All Article

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমিয়েছে চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন
চীনে প্রতি ১০ কর্মদিবস অন্তর বৈশ্বিক তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে এখন চালকদের প্রায়…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    মতামত

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!
কথক দা: আমরা যেন আইয়্যামে গুজবে বাস করছি। অপতথ্য আর অপসংবাদের ভীড়ে কোনটা সত্য আর কোনটা অর্ধসত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা বোঝা খুবই মুশকিল। একসময়…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান
এম আর হাসান:খুররম খান পন্নী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এই তিনটি…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?
শাহাদৎ হোসেন:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ
ওবায়দুল হক বাদল:আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব খাতে ২ লাখ…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?
মুস্তাফিজ শিহাব:বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এক চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে রয়েছে বিপুল জনশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে চরম অবমাননা…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article