পাঠান কররানি রাজবংশ বাঙ্গালা তথা বাংলার ইতিহাসে বিখ্যাত। এই বংশের তাজ খাঁ কররানি, সোলেমান কররানি, বায়াজীদ খান পন্নী, দাউদ খান কররানি গৌড় তথা বাংলার তখতে বসে স্বাধীন সুলতানরূপে শাসন করে গেছেন। এর মধ্যে সোলেমান ও তদীয় কনিষ্ঠ পুত্র দাউদই বিশেষ প্রসিদ্ধ। দাউদ বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান। দাউদের ছিন্ন মস্তক আগ্রায় প্রেরিত হওয়ার পরেই বাংলা মুল্লুক কাগজে কলমে মোঘলের অধীন হয়, যদিও কররানিদের সেনাপতিগণ মোঘলদেরকে শাসকরূপে স্বীকার করেন নি। বরং তারা প্রায় দুই যুগ ধরে মোঘল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এই সেনাপতিদেরকে ইতিহাসে বাংলার বারো ভুইঞা বলে আখ্যা দেওয়া হয়। দাউদের পরাজয়ের পরে তাাঁর অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুুত্র কন্যা আগ্রায় প্রেরিত হয়। বাদশাহ আকবর তার নিহত শত্রুর সন্ততিগণের ভরণপোষণের সুব্যবস্থা করেছিলেন বলে ‘আকবর নামাতে’ লিখিত আছে।

সুবিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ তারিখ-ই-বাদাউনিতে দাউদ খান কররানির সঙ্গে মোঘল সেনাবাহিনীর যুদ্ধের দৃশ্য।
মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ


কররানি সুলতানদের রাজধানী ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত নেপালের সীমান্তবর্তী গঙ্গাবিধৌত তাণ্ডা নগরিতে যা বর্তমানে ফইজাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত। বায়াজীদ খান পন্নী (কররানি) তার পিতার শাসনামলে বাংলাদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।

আটিয়ার জঙ্গলে বুনো মহিষ শিকার করেন এমামুযযামানের পিতামহ করটিয়ার জমিদার মোহাম্মদ হায়দর আলী খান পন্নী ।

জেলার উপর দিয়ে প্রবহমান যমুনার শাখা গোড়াই নদীতে এমামযযামানের প্রথম শিকার করা কুমির। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এখন সেই নদীটি মৃতপ্রায় ।
সলিম পন্নীর পুত্র মইন খান চৌধুরী, সলিমনগরের অদূরে স্বনামে মইননগর গ্রাম প্রতিষ্ঠিত করে তথায় আপনার দেওয়ানখানা ও আবাসবাটী নির্মাণ করেন। মইননগরের পুরাতন নাম গোড়াই, মইন খান চৌধুরী স্বীয় নামে উহার নতুন নামকরণ করলেও উহার পুরাতন নাম বিলুপ্ত হয় নাই। সইদ খান পন্নীর বংশধরগণ বহুকাল পর্যন্ত এই মইন নগর বা গোড়াই গ্রামে বসতি করেন। তখন গোড়াই হয়ে ওঠে ময়মনসিংহ ও উত্তর বঙ্গের বিরাট এলাকার কেন্দ্রভূমি। এখানে গড়ে ওঠে বিরাট সমৃদ্ধ নগর। গোড়াই নদীর বন্দরে এসে ভিড়ত দূর দূরান্ত থেকে আসা বড় বড় বজরা ও নৌযান। সইদ খাঁর অধস্তন ৯ম পুরুষ সা’দত আলী খান পন্নী গোড়াই পরিত্যগ করে টাঙ্গাইলের করটিয়া গ্রামে নিজ বসতি স্থাপন করেন। সেই থেকে গোড়াই তার জৌলুস হারাতে থাকে। কালের প্রবাহে বর্তমানে গোড়াই রাজবাড়ির ভগ্নস্তূপগুলোর ইট-সুড়কি পর্যন্ত লোপাট হয়ে গেছে। জমিদারবাড়ির মহলগুলো অধিকাংশই মাটির নিচে চলে গেছে। এখন শুধু পারিবারিক কবরস্থানটুকু কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

গোড়াইতে পূর্বপুরুষের স্মৃতিচিহ্নের সামনে এমামুযযামান। বর্তমানে এই ভবনটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে অথচ এককালে এই গোড়াইতে বসেই বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন মহামান্য এমামুযযামানের পূর্বপুরুষগণ।
সইদ খাঁন পন্নী ( লেখক : শ্রী রসিক চন্দ্র বসু)
https://en.wikipedia.org/wiki/Daud_Khan_Karrani
https://en.wikipedia.org/wiki/Karrani_dynasty
http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%88%E0%A6%B8%E0%A6%BE_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=95570





