প্রচ্ছদ    HT All Article   মাদ্রাসার রূপান্তর: জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র থেকে...

মাদ্রাসার রূপান্তর: জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র থেকে সংকীর্ণতার পথে

২৫ মার্চ ২০২৬ ০৪:৩২ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

রিয়াদুল হাসান:
বর্তমানে মাদ্রাসা বলতে আমরা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুঝে থাকি। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার নীতি মান্য করে ধর্ম এখন আমাদের জীবনের একটি ব্যক্তিগত পালনীয় বিষয়। রাষ্ট্রের পরিচালনা পদ্ধতিতে ধর্মের কোনো বিধি-বিধান বা নৈতিকতার প্রভাব থাকার কথা নয়। আমরা মুসলমানেরা ব্রিটিশদের পদানত হওয়ার আগে রাষ্ট্রীয় জীবন অনেকাংশে ইসলামের নীতি-আদর্শ দ্বারাই পরিচালিত হত। তখন ধর্ম কেবল ব্যক্তিগত বিষয় ছিল না, ধর্মের আইন-কানুন, অর্থনীতি, দণ্ডবিধি, দর্শন ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত হত। তাই সে সময় মাদ্রাসাগুলোতে কেবল ইসলামের জাতীয়-রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো শিক্ষা দেওয়া হত। শিক্ষার্থীরা ইসলামের আইনশাস্ত্রের (ফিকাহ) জ্ঞান লাভ করে আদালতে সেই জ্ঞানকে প্রয়োগ করতে পারতেন। ঠিক এখন যেভাবে আমাদের শিক্ষার্থীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রিটিশদের তৈরি আইন ও দণ্ডবিধি অধ্যয়ন করে উকিল, ব্যরিস্টার, জজ-ম্যাজিস্ট্রেট তৈরি হয়। পার্থক্য হল, আগে পড়ানো হত ইসলামের আইন, এখন পড়ানো হয় ব্রিটিশের আইন।

কর্মসংস্থানের সংকট
আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে এখনও সেই ফিকাহ, শরিয়তের বিধি-বিধানের বই পড়ানো হয়, ছাত্ররা তোতাপাখির মত তা মুখস্থ করে, কিন্তু সেসব বিধান জাতীয় জীবনে অচল। রাষ্ট্র থেকে ধর্ম বিদায় নিয়েছে বহু আগে। তাই মাদ্রাসার ছাত্ররা পাশ করে আদালতে কাজ পান না। তাদেরকে কাজ করতে হয় মসজিদ মাদ্রাসায় অর্থাৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে মোড়ে মোড়ে তৈরি হচ্ছে অগণিত মাদ্রাসা। সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ এসব মাদ্রাসার উপর খাটে না। কারণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মানেই মহা-পবিত্র ও স্পর্শকাতর স্থান। সরকার এগুলোকে স্পর্শ করে না। গণতান্ত্রিক দেশে ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে তুষ্ট করেই সরকারকে ক্ষমতায় থাকা লাগে। এই সুযোগ নিয়ে মাদ্রাসাগুলোতে চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য। গণমাধ্যমে আমরা নিয়মিত সেসব খবর পাই এবং এড়িয়ে যাই।

অনিয়ম ও নির্যাতনের চিত্র
কিছু কিছু মাদ্রাসার অভ্যন্তরে কী কী অনৈতিক অপকর্ম হচ্ছে তার চিত্র আমরা পত্র-পত্রিকা মারফত জানতে পারি। সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছি না কারণ আমাদের লেখার উদ্দেশ্য সেটা নয়। শুধু শিশু বলাৎকার নয়, অমানুষিক নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন, মাদক ব্যবসা সব রকম অপরাধই সেখানে ঘটছে। হ্যাঁ, যুক্তির খাতিরে অনেকে বলেন, কেবল মাদ্রাসায় নয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসব অপরাধ কম-বেশি ঘটছে। কিন্তু তাদের এই যুক্তি ধোপে টেকে না। কারণ মাদ্রাসায় দীনি শিক্ষা, নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়; আল্লাহর কালাম ও হেদায়েতের বাণী শিক্ষা দেওয়া হয়। আলেমরা বলেন, নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্যই মাদ্রাসা শিক্ষা অপরিহার্য। তাহলে এখানে কেন নৈতিকতার এত স্খলন দেখা যায়? এর জবাবে বলতে হয়, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিই এর জন্য দায়ী। এছাড়া আমরা দেখি প্রায়ই মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে তাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিয়ে যান। তাদেরকে দাঙ্গায় ব্যবহার করেন এবং পুলিশের গুলি ও লাঠিচার্জের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেরা পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মাদ্রাসা শব্দের প্রকৃত অর্থ
আগেই বলেছি, আমরা বর্তমানে মাদ্রাসার যে চিত্র দেখতে পাই, আগে কিন্তু তেমনটা ছিল না। মাদ্রাসা শব্দটির অর্থ কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। মাদ্রাসা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ ‘র্দাসুন’ থেকে যার অর্থ ‘পাঠ’। সুতরাং মাদ্রাসা অর্থ পাঠশালা। মহানবী (সা.) এমন এক যামানায় জন্মগ্রহণ করেন, যে যামানায় আরব সমাজ জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মহানবীর (সা.) প্রদত্ত শিক্ষার মাধ্যমে প্রথমে মানুষের ভিতরের অন্ধকার দূর হয়েছে, পরে সমাজের অন্ধকার দূর হয়ে একটি আলোকিত সভ্যতার সোনালি ইতিহাস রচিত হয়েছে। তাই তিনি তাঁর সাহাবিদেরকে কী শিক্ষা দিতেন, সেটা জানা জরুরি। তিনি কি আরবি মাখরাজ শিক্ষা দিতেন, তিনি কি বালাগাত-মানতিক শিক্ষা দিতেন, তিনি কি ইলমুল ফিকাহ, উসুলে ফিকাহর সূক্ষ্মতত্ত্ব শিক্ষা দিতেন? তিনি কি ওজুর কয় ফরজ, কয় সুন্নত, কয় নফল শিক্ষা দিতেন?

বর্তমানে মাদ্রাসাগুলোতে তো এগুলোই শিক্ষা দেওয়া হয়। কিন্তু রসুলাল্লাহ তাঁর সাহাবিদেরকে হেদায়াতের জ্ঞান, তওহীদের জ্ঞান, দীনের আকিদা শিক্ষা দিয়েছেন, তাঁর উপর যে আয়াতগুলো নাজিল হত সেগুলো তিনি তাঁর সঙ্গীদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং সংগ্রাম করেছেন বাস্তব জীবনে সেগুলো প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আল্লাহর নাজিলকৃত কেতাবের প্রথম আয়াত ইক্বরা, পাঠ কর অর্থাৎ জ্ঞান অর্জন করো (সুরা আলাক্ব ১)। আল্লাহর কালাম পাঠ করে শোনানোই ছিল তাঁর ইসলাম প্রচারের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। মক্কায় থাকতে তিনি সাহাবিদেরকে নিয়ে সাফা পর্বতের পাদদেশে আরকাম বিন আবুল আরকামের (রা.) বাড়িতে সমবেত হতেন। রসুলাল্লাহ তাদেরকে কোর’আন শিক্ষা দিতেন, দীনের আলোচনা করতেন। তাঁর কাছ থেকে কোর’আন শিক্ষা করে আবু বকর (রা.), খাব্বাব ইবনে আরাত (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবীগণ মানুষের কাছে সেই শিক্ষা প্রচার করতেন। তাঁরা ছিলেন সেই প্রাথমিক যুগের শিক্ষক।

মদিনা পর্বের শিক্ষাপদ্ধতি
মওলানা আব্দুস সাত্তার তাঁর ‘তারিখ-ই-মাদ্রাসা-ই-আলিয়া’ গ্রন্থে রসুলাল্লাহর যুগের শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর বর্ণনামতে মদিনায় হিজরতের পর প্রধানত মসজিদে নববীতে বসেই তিনি সাহাবিদের সঙ্গে দীনের আলোচনা করতেন, নারী পুরুষ নির্বিশেষে তাঁর সামনে একত্রে বসে কথা শুনতেন। সেখানে ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থাও ছিল। এ সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নতুন নতুন বিধান নাজিল হতে থাকে- যেমন ব্যবসা বাণিজ্য, বিয়েশাদি, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, অর্থব্যবস্থা, যুদ্ধনীতি ইত্যাদি। এগুলো শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি রসুলাল্লাহ সাহাবীদেরকে দাওয়াতি কাজ করার পদ্ধতি শিক্ষা দিতেন। প্রশিক্ষিত সাহাবীদেরকে বিভিন্ন গোত্রে তিনি প্রেরণ করতে কোর’আন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। যে সাহাবিরা যুদ্ধবিদ্যায় বেশি পারদর্শী ছিলেন, তারা অন্যদেরকে অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ দিতেন। কখনও কখনও দৌড়, কুস্তি, ঘোড়দৌড়, শরীরচর্চা, তীরনিক্ষেপ, বর্শাচালনার প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হত। আল্লাহর রসুল স্বয়ং এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, কখনও তিনি উপস্থিত থেকে প্রতিযোগীদের উৎসাহ যুগিয়েছেন। কিছু সাহাবি ছিলেন চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী। আল্লাহর রসুল তাঁদেরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন অন্যান্য নারীদেরকে সেবিকা বা নার্স হিসাবে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য। তাঁরাই যুদ্ধের মাঠে এবং যুদ্ধ থেকে ফিরে আহত সৈনিকদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। যেসব সাহাবি লিখতে পড়তে পারতেন, তাদেরকে দিয়ে রসুলাল্লাহ ওহি লেখাতেন। তাদের মোট সংখ্যা ছিল ৪৫ জন। তিনি মদিনার শিশু-কিশোর ও নিরক্ষর নাগরিকদের লেখাপড়া শেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। বদরে বন্দী হওয়া শিক্ষিত ব্যক্তিদের মুক্তিপণ ছিল তারা প্রত্যেকে দশজন করে মদিনার বালক-বালিকাকে লিখতে পড়তে শেখাবেন।

অনেক সাহাবি সার্বক্ষণিকভাবে রসুলাল্লাহর (সা.) আশপাশে থাকতেন, মসজিদে নববীতেই তারা অবস্থান করতেন। তাঁদেরকে বলা হত আসহাবে সুফ্ফা। রসুলাল্লাহর মুখনি:সৃত প্রতিটি কথা তারা শ্রবণ করতে পিপাসু ছিলেন এবং তাঁরা সেগুলো পালন করতে সবার চেয়ে অগ্রণী ছিলেন। পরবর্তীকালে এই সাহাবিদের মধ্যে যাঁরা জীবিত ছিলেন তাঁরা দীনের জ্ঞান মানুষকে দান করেছেন। তাঁরাও মসজিদে বসেই মানুষকে দীনের আকিদা, মাসলা-মাসায়েল শিক্ষা দিয়েছেন, কেউ কেউ নিজের বাড়িতে বসেই আলোচনা করতেন। নবুয়তের প্রথম দিন থেকে উমাইয়া বংশের শাসনামলের প্রথম ভাগ পর্যন্ত প্রায় একশ বছর সময়কালে মাদ্রাসা বলে আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি (জীবন পথের পাথেয়: আবুল হাসান নাদভী)। এখনকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মত শ্রেণি মোতাবেক সিলেবাস, কারিকুলাম, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদির তো প্রশ্নই ওঠে না। কারণ তখন কোনো হাদিস বা ফিকাহর কিতাবই রচিত হয়নি। আর কয়েক কপি কোর’আন ছিল কেবল শাসকদের দরবারে সংরক্ষিত।

দীনের জ্ঞানের বিনিময় গ্রহণ
রসুলাল্লাহর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল, কেউ যেন দীনের জ্ঞান অন্যকে শিক্ষা দিয়ে কোনো হাদিয়া বা উজরত (বিনিময়) গ্রহণ না করে। কেউ নিলে তার ঠাঁই হবে জাহান্নামে সেটাও তিনি সুস্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি কোর’আন শিক্ষাদানের উপর একটি ধনুকও গ্রহণ করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার পরিবর্তে জাহান্নামের আগুনের ধনুক তার গলায় লটকাবেন।” (ইবনে মাজাহ)। আর পবিত্র কোর’আনে আল্লাহও বারবার বলেছেন, তোমরা আমার আয়াতসমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না (সুরা বাকারা ৪১)। ইসলামের জ্ঞান কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির কামনায় বিনামূল্যে দিতে হবে- এটি আল্লাহর দীনের একটি চিরন্তন নীতি।

ইসলামের সোনালি যুগের মাদ্রাসা
প্রায় ১,০০০ বছর ধরে তদানীন্তন অর্ধ-পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত মুসলিম বিশ্বে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে অন্তত ৬০টি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। এগুলোর মধ্যে প্রাচ্যে বাগদাদ এবং পশ্চিমে কর্ডোবা ছিল সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। এই শহরগুলোতে যে শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ছিল সেগুলোকে মাদ্রাসাই বলা হত। আব্বাসী খলিফা আল মুনতানসির বিল্লাহ (শাসনকাল ১২২৬-১২৪২) বাগদাদে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম ‘আল-মাদ্রাসা আল-মুনতানসিরিয়া’। এই মাদ্রাসাটির কারুকার্যময় ভবন ও চত্ত্বর এত যুদ্ধ হামলার মাঝেও ইসলামের স্বর্ণযুগের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

অষ্টম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের শাসকশ্রেণি, আমির-উমরাহ, উজির-নাজির, প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য সুপরিচিত পণ্ডিতদের গৃহশিক্ষক হিসাবে নিয়োগ করতেন। এই গৃহশিক্ষকগণ ছাত্রদের মূলত আরবি, সাহিত্য, ধর্ম, গণিত এবং দর্শন শেখাতেন। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল মসজিদকেন্দ্রিক মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসাগুলোতে প্রধানত ফিকাহ বা ইসলামের আইনশাস্ত্র (ওংষধসরপ লঁৎরংঢ়ৎঁফবহপব) অধ্যয়ন করা হতো। পাশাপাশি ধর্মতত্ত্ব, চিকিৎসা ও গণিতের মতো বিষয়গুলো নিয়েও সেখানে শিক্ষাদান ও গবেষণা করা হতো। মাদ্রাসা কমপ্লেক্সগুলো সাধারণত একটি মসজিদ, বোর্ডিং এবং একটি গ্রন্থাগার নিয়ে গঠিত হত। রাষ্ট্র অথবা অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব মাদ্রাসার নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অধ্যাপকদের বেতন, ছাত্রদের উপবৃত্তি ইত্যাদি ব্যয় বহন করা হতো। তবে এই মাদ্রাসাগুলোতে আধুনিক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত মানসম্মত পাঠ্যক্রম বা সনদ প্রদানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অভাব ছিল।

বিশ্বের প্রথম নারী প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা
মরোক্কোতে ৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে ফাতিমা আল ফিহরি নামে একজন বিদুষী নারী নিজের অর্থে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন যা বর্তমানে জামিয়াত-আল-কারাউইন (টহরাবৎংরঃু ড়ভ ধষ-ছধৎধরিুুরহ) নামে পরিচিত। জামিয়া শব্দের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়। এই মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীদেরকে চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় ডিগ্রি বা সনদ প্রদান করা হতো। এই সনদকে বলা হত ‘ইজাযাহ’। হরিণের চামড়া দিয়ে তৈরি পার্চমেন্টে এই প্রশংসাপত্র লিখা হত। শহরের একজন বড় চিকিৎসক এবং প্রধান বিচারপতির (কাজিউল কোজ্জাত) হাত দিয়ে এই সনদ শিক্ষার্থীদেরকে প্রদান করা হতো। বিশ্বের প্রাচীনতম ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে গিনেস বুক অফ রেকর্ডসে ও ইউনেস্কোর রেকর্ডে এর নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বায়তুল হিকমাহ
অষ্টম শতাব্দিতে নির্মিত ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সাড়া জাগানো ও প্রভাবশালী জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র বায়তুল হিকমা (House of wisdom)। অনুবাদকেন্দ্র হিসেবে এর যাত্রা শুরু হলেও ক্রমেই তা গবেষণাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানমন্দিরে পরিণত হয়েছিল। আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ (শাসনকাল ৭৮৬-৮০৯ খ্রিষ্টাব্দ) তাঁর রাজধানী বাগদাদে এটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর পুত্র খলিফা আল-মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে সেটির পূর্ণতা দান করেন। সিরিয়ান খ্রিষ্টান হুনায়ন ইবনে ইসহাককে বায়তুল হিকমার মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন জাতির পণ্ডিতদের সম্মেলন ঘটেছিল এই প্রতিষ্ঠানে। এ প্রতিষ্ঠানটি গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলকেমি, প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল ও মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানচর্চার অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্থান হয়ে উঠে। ভারতীয়, গ্রীক ও পারসিয়ান রচনা ব্যবহার করে পণ্ডিতরা বৈশ্বিক জ্ঞানের বিরাট ভাণ্ডার অর্জন করেন এবং এর মাধ্যমে তাদের নিজেদের আবিষ্কারের দিকে এগিয়ে যান। নবম শতকের মধ্যভাগে বাইতুল হিকমাহ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ গ্রন্থভাণ্ডার। মোঙ্গলদের বাগদাদ অবরোধের সময় শহরের পতন হলে দীর্ঘ ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে জ্ঞানবিজ্ঞানের সোনালি ধারা বজায়ের আলোকবর্তিকা বায়তুল হিকমাহও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। কথিত রয়েছে, হত্যাকাণ্ড চলার সময় যদিও পারস্য মনীষী নাসিরুদ্দিন তুসি ৪০ হাজার গ্রন্থ অনত্র সরিয়ে নেন, তবু এত বিপুল পরিমাণ বই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় যে বইয়ের কালিতে আব্বাসীয় প্রাসাদসংলগ্ন টাইগ্রিস নদীর পানি কালো হয়ে যায়।

মুসলিমদের বিজ্ঞান-সাধনা
অষ্টাদশ শতাব্দি থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগ ধরা হয়। এ সময় মুসলিম বিজ্ঞানীরা বিশ্বসভ্যতাকে উপহার দিয়েছে অগণিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। ভূগোলবিদ, দার্শনিক, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ আল খাওয়ারিজমি (Algorism), পদার্থবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, রসায়নবিদ, ভূগোলবিদ, হাফিজ, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, কবি, ইসলামী চিন্তাবিদ ও মনোবিজ্ঞানী ইবনে সিনা (Avicenna), জ্যোতির্বিদ, সংগীতজ্ঞ, পদার্থবিজ্ঞানী, চিকিৎসক, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, কবি ও দার্শনিক ইবনে বাজ্জাহ (আবসঢ়ধপব), জ্যোতির্বিদ আল ফারগানি (Alfraganus), পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র অংকনকারী আল ইদ্রিসি (Dreses), কোরআন, হাদিস, ফিকাহ, ইতিহাস, দর্শন, ভাষাতত্ত্ব, রাজনীতি, গণিতশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ের বিশারদ আল কিন্দি (Alkindus), জ্যোতির্বিদ আল বাত্তানি, পদার্থবিদ, রসায়নবিদ, দার্শনিক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী আল রাজিসহ অগণিত বিশ্ববরেণ্য শিক্ষক মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মাদ্রাসায় গবেষণা ও শিক্ষকতা করেছেন। তাঁদের লেখা অমূল্য গ্রন্থাবলি সব মাদ্রাসাগুলোতে কপি করে পড়ানো হতো। যেমন ইবনে সিনা তাঁর সমগ্র জীবনে ৪৫০টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যার মধ্যে ১৫০টি দর্শনশাস্ত্র বিষয়ক এবং ৪০টি চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক রচনাসহ মোট ২৪০টি গ্রন্থ বর্তমানে টিকে রয়েছে। তাঁর লেখা কানুন ফিত তীব (The Canon of Medicine) বহু শতাব্দী ধরে ইউরেশিয়া জুড়ে মেডিক্যাল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক হিসাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

অগণিত মুসলিম শিক্ষাবিদ, দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, কবি-সাহিত্যিকদের মাধ্যমে মুসলিম সভ্যতা তখন জ্ঞানের আকাশে সূর্যের মত প্রভাব বিস্তার করছিল। তাঁদের নীরব অনুপ্রেরণাই পশ্চিমা দেশগুলোকে ক্রুসেড-পরবর্তী যুগে শিক্ষা ও জ্ঞানের জগতে রেনেসাঁ সৃষ্টিতে সক্ষম করেছিল। সেই জ্ঞানকেন্দ্রগুলোর নামও ছিল মাদ্রাসা, আজকেও আমাদের পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অগণিত মাদ্রাসা। সেই মাদ্রাসার সাথে আজকের মাদ্রাসার আসমান জমিন তফাৎ। আজকের মাদ্রাসাগুলোতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ও গবেষণা নেই। কারণ তাদের কাছে মাসলা-মাসায়েলের জ্ঞানই হচ্ছে আসল জ্ঞান (ইলম), এর বাইরে কোনো প্রকার জ্ঞানচর্চাকে তারা দুনিয়াবি জ্ঞান বলে তাচ্ছিল্য করেন। তাই মক্তব থেকে শুরু করে দাওরা পাশ করা পর্যন্ত তারা কেবল ওজুর মাস’আলা, হায়েজ নেফাসের মাস’আলা, রোজা ভঙ্গের মাস’আলাই শিখতে থাকেন। ফতোয়া জ্ঞানের বাইরে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তাই এসব মাদ্রাসা থেকে পাস করে কেউ জ্যোতির্বিদ, ভূগোলবিদ, রসায়নবিদ, পদার্থবিদ হয় না। তাদের ধর্মীয় জ্ঞানকে পুঁজি করে উপার্জন করা অর্থাৎ ধর্মব্যবসা ছাড়া আর কোনো উপায়ে জীবিকা হাসিলের যোগ্যতা তৈরি হয় না। প্রতিবছর হাজার হাজার নতুন ‘আলেম’ এসব মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে বেকারত্বের হতাশায় ভুগছেন অথবা ধনীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নতুন আরেকটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার জন্য। মাদ্রাসার শিক্ষক হয়ে তারা কী কী করেন সে বিষয়ে শুরুতে কিছুটা বলে এসেছি, পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন।

মুসলিম সভ্যতার সোনালী যুগে যে মাদ্রাসাগুলো সমগ্র বিশ্বে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছে, সেই মাদ্রাসা আজ আর নেই। মুসলিম জাতির গবেষণালব্ধ জ্ঞান বহিঃশত্রুর আক্রমণে অধিকাংশই লুপ্ত হয়ে গেছে, আর কিছু অংশ পাশ্চাত্যে হস্তান্তরিত হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব সেইসব গবেষণাকে আরো অগ্রসর করে গড়ে তুলেছে বিজ্ঞান প্রযুক্তি নির্ভর বিরাট এক বস্তুবাদী সভ্যতার ইমারত। মুসলিম বিশ্ব তাদের সামনে পদানত, হীনম্মন্যতায় আপ্লুত, লাঞ্ছিত, পরাজিত, রক্তাক্ত। লক্ষ লক্ষ মসজিদ আছে, মাদ্রাসা আছে। কিন্তু গৌরব করার মত কিছুই অবশিষ্ট নেই। গৌরব যা আছে সবই অতীত, আর সেই অতীত সম্পর্কেও রয়েছে এই জাতির সীমাহীন অজ্ঞতা। যদি এ জাতিকে আবার জাগতে হয়, তাহলে নিজেদের ইতিহাসের সঠিক পর্যালোচনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিকল্প নেই।

সমাধান কোন পথে
পাঠকের কাছে এখন নিশ্চয়ই স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলামের সোনালী যুগের মাদ্রাসা ছিল জ্ঞান, গবেষণা ও সভ্যতা গঠনের কেন্দ্র; আর আজকের অনেক মাদ্রাসা সেই ধারার বিপরীত দিকে অবস্থান করছে। ফলে বর্তমান মাদ্রাসা থেকে যে প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে, তারা না পারছে ইসলামের সঠিক চেতনা বিশ্বে তুলে ধরতে, না পারছে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য দিয়ে সমাজকে আলোকিত করতে। এর মূল কারণ শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা।

এখন শুধু সমালোচনা করে লাভ নেই- বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষিতদেরই আগে এই সত্য উপলব্ধি করতে হবে। এরপর প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধভাবে বসে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

প্রথমত, উম্মাহকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সেই ঐক্যের শক্তিতে আল্লাহপ্রদত্ত দীনকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে- যার উপর দাঁড়িয়ে গড়ে উঠবে শিক্ষা, আইন ও সমাজব্যবস্থা।

এরপর রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় (এবং সম্পদশালীদের অংশগ্রহণে) একটি সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এই শিক্ষা হবে সমন্বিত। এখানে একজন মুমিন দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভাষা, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পকলায়ও দক্ষ হয়ে উঠবে। অর্থাৎ একজন আলেমই হবেন একই সঙ্গে চিন্তাবিদ, বিজ্ঞানী, ডাক্তার বা প্রকৌশলী। তিনি যেমন মসজিদে ইমামতি করতে পারবেন, তেমনি সমাজের নেতৃত্ব দিতে, এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে সক্ষম হবেন।

এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চতর গবেষণা পর্যন্ত সবকিছুর সুযোগ থাকতে হবে- ক্ষুদ্র প্রযুক্তি থেকে শুরু করে উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তখন এই শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ আর পরনির্ভরশীল থাকবে না; তাদেরকে জীবিকার জন্য কারো দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। প্রশ্ন হলো- এটি কি সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন একটি সিদ্ধান্ত- বর্তমান জীর্ণ, অকার্যকর ও ব্যর্থ শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিত্যাগ করে একটি নতুন, কার্যকর ও সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে যাত্রা করা।

[লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট: ফোন/হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৬২১৪৩৪২১৩]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
 ১ মে ২০২৬    HT All Article

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমিয়েছে চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন
চীনে প্রতি ১০ কর্মদিবস অন্তর বৈশ্বিক তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে এখন চালকদের প্রায়…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    মতামত

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!
কথক দা: আমরা যেন আইয়্যামে গুজবে বাস করছি। অপতথ্য আর অপসংবাদের ভীড়ে কোনটা সত্য আর কোনটা অর্ধসত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা বোঝা খুবই মুশকিল। একসময়…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান
এম আর হাসান:খুররম খান পন্নী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এই তিনটি…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?
শাহাদৎ হোসেন:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ
ওবায়দুল হক বাদল:আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব খাতে ২ লাখ…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?
মুস্তাফিজ শিহাব:বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এক চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে রয়েছে বিপুল জনশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে চরম অবমাননা…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article