প্রচ্ছদ    HT All Article   নামাজের শিক্ষা কেন সমাজে প্রতিফলিত...

নামাজের শিক্ষা কেন সমাজে প্রতিফলিত হচ্ছে না?

৮ জুন ২০২৫ ০৪:৪২ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মোহাম্মদ আসাদ আলী:
পৃথিবীতে সর্বমোট কতটা মসজিদ আছে তার নির্ভুল হিসাব পাওয়া যায় না। এক হিসাবে পৃথিবীতে মোট মসজিদের সংখ্যা ৩৬ লাখ (TRT WORLD)। এর মধ্যে আমাদের বাংলাদেশে মসজিদ রয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি (ধর্ম-মন্ত্রণালয়)। প্রতিদিন কোটি কোটি মুসলমান এই মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করছেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো- তাদের কাছে যদি প্রশ্ন করা হয়, “ভাই! আপনারা কেন নামাজ আদায় করছেন বা নামাজের উদ্দেশ্য আসলে কী”- তাহলে বিভিন্ন রকমের উত্তর মিলবে। কেউ বলবে, আল্লাহর হুকুম তাই পড়ি, কেউ বলবে নামাজ জান্নাতের চাবি, কেউ বলবে নামাজ হল ধ্যান, এর মাধ্যমে বান্দার সাথে আল্লাহর সংযোগ স্থাপিত হয়, কেউ বলবে নামাজ পড়লে আল্লাহ আমার উপর খুশি হবেন, তাঁর নৈকট্য পাওয়া যাবে, কেউ বলবে নামাজের উদ্দেশ্য আল্লাহকে স্মরণ করা ইত্যাদি। সবই ঠিক আছে, কিন্তু ইসলামের অন্যান্য সব আমলও তো আল্লাহরই হুকুম, সেগুলো করলেও তো তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্যপ্রাপ্তিই হয়, তাই নয় কি? তাহলে আলাদা করে নামাজের কথা আল্লাহ কোর’আনে আশিবারের বেশি কেন বললেন?

নামাজের উদ্দেশ্য কী? 
আপনি উদ্দেশ্য ছাড়া, কারণ ছাড়া কখনও কোনো কাজ করেন? অবশ্যই না। তাহলে ভাবুন তো- একজন সাধারণ মানুষ হয়ে যদি আপনি অনর্থক কাজ না করেন, তাহলে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ কি উদ্দেশ্য ছাড়া অনর্থক তার বান্দাদেরকে নামাজ পড়তে বলবেন? যে নামাজের কথা তিনি পবিত্র কোর’আনে ৮০ বারের বেশি উল্লেখ করেছেন, তা অনর্থক হতেই পারে না। প্রশ্ন হলো- কী সেই উদ্দেশ্য?

জবাব পাওয়া যায় মহানবীর একটি হাদিসে। রসুল (সা.) একটি চমৎকার উপমা দিয়ে বলেন, “ইসলাম একটি ঘর, নামাজ তার খুঁটি, আর জিহাদ হলো ছাদ।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ) একটি ঘরে খুঁটির কাজ কী ও ছাদের কাজ কী? ঘরের প্রধান যে উদ্দেশ্য রোদ বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া, সেটা সম্ভব হয় ছাদের কারণে। আর ছাদকে উপরে ধরে রাখার জন্য দরকার হয় খুঁটি। যদি কোনো ঘরে ছাদ না থাকে তাহলে খুঁটির কোনো দরকার নেই। আবার যদি খুঁটি না থাকে তাহলে ছাদ দেওয়া অসম্ভব। রসুল (সা.) জেহাদকে ছাদের সঙ্গে তুলনা করে বোঝালেন ইসলামের মহাগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জেহাদ। আর খুঁটির সাথে নামাজের তুলনা করে বোঝালেন- নামাজের উদ্দেশ্য হলো জেহাদকে সমুন্নত রাখা।

আরও পড়ুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

নামাজের আলোচনায় জেহাদের কথা কেন?
পাঠক, ১৪০০ বছর আগে আরবে আল্লাহ শেষ নবীকে পাঠালেন। আল্লাহ কোনো এলাকায় নবী পাঠালে মিশন নির্ধারণ করে দেন। রসুল (সা.) এর মিশন কী ছিল কোর’আনে বলা হয়েছে এভাবে- ‘আমি তাঁকে হেদায়াহ ও সত্যদীন দিয়ে এই জন্য প্রেরণ করেছি যাতে তিনি সেটাকে অন্য সমস্ত দীনের উপর জয়যুক্ত করতে পারেন (ফাতাহ ২৮, তওবা ৩৩, সফ ০৯)। মিশন একদম পরিষ্কার। যে দীন বা জীবনবিধান নিয়ে তাঁর আগমন হয়েছে, সেটাকে বসে বসে শুধু পাঠ করা নয়, তাফসীর করা নয়, মুখস্থ করা হয়, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা নয়, মিশন হলো সেটাকে সারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করা।

যখনই প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ আসলো, তখনই আসলো জেহাদেরও প্রসঙ্গ। কারণ জেহাদ ছাড়া কোনো আদর্শ সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠা করা অকল্পনীয়। যেহেতু জেহাদ ছাড়া সম্ভব নয়, কাজেই ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে রাখা হলো জেহাদকে। সবচেয়ে বড় পুরস্কারও রাখা হলো তাদের জন্য যারা জেহাদে প্রাণ বিসর্জন দিবে, অর্থাৎ শহীদ হবে। কোর’আনে তওহীদের পরে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে তাহলো জেহাদ। এমনকি মো’মেনের সংজ্ঞার মধ্যেই আল্লাহ জেহাদকে অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন- “মো’মেন তারাই যারা আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ঈমান আনার পর আর সন্দেহ পোষণ করে না এবং সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ (সংগ্রাম) করে, তারাই খাঁটি।” (হুজরাত: ১৫)

সমস্যা হলো, এতবড় মিশন বাস্তবায়ন কারো পক্ষে একজীবনে সম্ভব নয়। রসুল (সা.) তাই দু’টো কাজ করলেন। একদিকে নিজে ৭৮টা যুদ্ধ করলেন, আরেকদিকে একটা দুর্ধর্ষ সামরিক জাতি তৈরি করলেন; যাদেরকে আমরা এখন বলি সাহাবায়ে আজমাইন। সাহাবায়ে আজমাইনরা কিন্তু মুফতী মোহাদ্দিস মুফাসসির ছিলেন না। প্রত্যেকে ছিলেন একেকজন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, এমনকি তাদের নারী ও শিশুরাও ছিলেন দুঃসাহসী যোদ্ধা। তাদের সামনে তুলোর মতো উড়ে গিয়েছিল তৎকালীন বিশ্বের সুপার পাওয়ার খ্যাত রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য। প্রশ্ন হলো- কীভাবে তা সম্ভব হয়েছিল? কোন প্রশিক্ষণ পেয়ে সাধারণ আরবরা, যারা কিছুদিন আগেও রোমান পারস্য বাহিনীকে ভয় পেত, অল্প কিছুদিনের ভেতরে বিশ্বের সেরা যোদ্ধায় পরিণত হয়েছিল?

যাদের সামরিক বাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন- একটা সেনাবাহিনীতে সৈন্যদের প্রশিক্ষণের জন্য কত ধরনের আয়োজন ও ব্যবস্থা রাখতে হয়। সৈন্যদের শারীরিক সুস্থতা থেকে শুরু করে নৈতিকতা, আত্মপ্রত্যয়, সাহস, ক্ষিপ্রতা, একতা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ইত্যাদি সব বিষয়ে ফিট রাখার জন্য নানাবিধ প্রশিক্ষণ দিতে হয়। তাহলে সাহাবীদের জীবনে সেই প্রশিক্ষণ কোথায়?

সেই প্রশিক্ষণ হলো নামাজ। নামাজ হলো উম্মতে মোহাম্মদীর এমন এক প্রশিক্ষণ, যা মো’মেনদের শারীরিক, মানসিক, আত্মিক সকল দিক দিয়ে প্রস্তুত করে তুলত। যে মোজাহেদরা যত ভালোভাবে নামাজ আদায় করতেন, তার চরিত্রে জেহাদের গুণ তত দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হত, তিনি জেহাদের ময়দানে তত বেশি ভূমিকা রাখতে পারতেন। আর সেজন্যই পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ ৮০বারের বেশি নামাজের কথা বলেছেন। আর রসুল (সা.) বলেছেন, জেহাদ হলো ইসলাম নামক ঘরের ছাদ, নামাজ হলো খুঁটি।

নামাজ কীভাবে জেহাদের চরিত্র শিক্ষা দেয়?
নামাজ কীভাবে জেহাদের চরিত্র শিক্ষা দেয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলে আলাদা বই হয়ে যাবে। এই প্রবন্ধে আমরা অতি সংক্ষেপে কয়েকটি বিষয় জানবো। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার মানুষগুলো যখন এক ছাদের নিচে, এক কাতারে, এক আল্লাহর সামনে হাজিরা দিতে দাঁড়াচ্ছেন, তখন তাদের মধ্যে একতার মূল্যবোধ জাগ্রত হচ্ছে। যে কোনো দিকে মুখ করে দাঁড়ানোর বদলে সমস্ত মো’মেনরা যখন একদিকে (কাবার দিকে) মুখ করে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন, তখন তাদের মধ্যে লক্ষ্যের ঐক্য ও উদ্দেশ্যের ঐক্য স্থাপিত হচ্ছে। কমান্ডার ছাড়া যেমন সৈন্য যুদ্ধ করতে পারে না, তেমনি ইমাম ছাড়া মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারে না। সালাতে একজন ইমামের কমান্ড মোতাবেক যখন সকল মুসল্লি রুকু-সেজদা, ওঠা-বসা করছেন, তখন ইমাম-আমির বা কমান্ডারের আদেশ মেনে চলার শিক্ষা তাদের চরিত্রে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। নামাজের ফরজ, সুন্নত ইত্যাদি যত নিয়ম-কানুন ও ডিসিপ্লিন আছে, যেমন এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানো যাবে না, চোখ বন্ধ করা যাবে না, হাত-পা নড়াচড়া করা যাবে না, ইমামের তাকবীরের সঙ্গে সঙ্গে রুকু সেজদা করতে হবে, দেরি করা যাবে না আবার তাড়াহুড়াও করা যাবে না, এসব একত্রিত করলে প্রায় ১১৪ টির বেশি নিয়ম কানুন দাঁড়ায়। এতগুলো ডিসিপ্লিন মেনে যখন মো’মেনরা সালাত আদায় করবে, তখন তাদের চরিত্রে স্বভাবতই ডিসিপ্লিন মানার গুণগুলো প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে- যা একটা সামরিক বাহিনীর সৈন্যদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা বলাই বাহুল্য।

অথচ, পরিহাসের বিষয় হলো- নামাজ যে আমাদেরকে এতকিছু শেখায়, সেটা আমরা জানিও না, বুঝিও না। যেহেতু নামাজের উদ্দেশ্যই এখন নেই, তাই নামাজের চেহারাও বদলে গেছে। প্রচলিত আকিদায় নামাজকে মনে করা হয় অন্যান্য ধর্মের পূজা-প্রার্থনা-আরাধনা ইত্যাদির মতোই কিছু একটা। এক প্রকার ধ্যানের বিষয় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। অথচ যদি ধ্যান করানোই উদ্দেশ্য হতো তাহলে নামাজের মধ্যে ১০০’র বেশি নিয়ম কানুন থাকত না। চোখ বন্ধ রেখে ধ্যান করা সহজ নাকি চোখ খোলা রেখে? অবশ্যই চোখ বন্ধ রেখে। কিন্তু নামাজের নিয়ম হলো- চোখ বন্ধ করা যাবে না। তাছাড়া ধ্যানের জন্য নির্জন স্থান উত্তম, কিন্তু নামাজের জন্য নির্দেশ হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ একটা নির্দিষ্ট জায়গায় জড়ো হয়ে নামাজ আদায় করা। এরপরও নামাজকে ধ্যান মনে করা কীভাবে সম্ভব?

নামাজের সঙ্গে কুচকাওয়াজের সাদৃশ্য
পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ জেহাদকে ফরজ করে দিয়েছেন, সঙ্গে নামাজকেও ফরজ করে দিয়েছেন। কারণ যুদ্ধের প্রশিক্ষণ ছাড়া যুদ্ধ করা যায় না। কিন্তু এই জাতি যখন জেহাদ ছেড়ে দিল এবং নিজেদেকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য আত্মার বিরুদ্ধে জেহাদ আবিষ্কার করল, তখন আর জেহাদের প্রশিক্ষণেরও দরকার রইল না। অল্পকিছুদিনের ভেতরেই নামাজের চেহারা পাল্টে ধ্যানের মতো করে ফেলল। এরপরও দৃষ্টিবান মানুষ বুঝতে পারেন যে কোনো মসজিদের নামাজের দৃশ্যের সঙ্গে পৃথিবীর আর একটিমাত্র দৃশ্যের মিল পাওয়া যায় তাহলো সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ। যেমন ডিগ্রী ইসলামিক স্টাডিজের (উবমৎবব ওংষধসরপ ঝঃঁফরবং) তৃতীয় পত্রের অনুশীলনের ৬ষ্ঠ প্রশ্নের ১৮ নং উত্তরে লেখা হচ্ছেÑ “মসজিদ নেতৃত্ব ও নেতার আনুগত্যের শিক্ষা দেয়; মসজিদ নেতৃত্ব ও আনুগত্যের এক অনুপম শিক্ষা কেন্দ্র। মসজিদে সব মুসল্লির একই এমামের পেছনে সারিবদ্ধভাবে উঠাবসার দৃশ্য দেখে মনে হয় তারা একজন সেনাপতির নির্দেশে কুচকাওয়াজে লিপ্ত। এখানেই নেতার প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য ও নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের উত্তম সবক বিদ্যমান।”

নামাজের আত্মিক ভাগ
প্রশ্ন আসতে পারে নামাজ কি তাহলে শুধুই বাহ্যিক প্রশিক্ষণের বিষয়? না, নামাজের আরেকটি ভাগ আছে তাহলো আত্মার ভাগ। ইসলামের শরিয়াহ মারেফতের ভারসাম্যের মতোই নামাজও বাহ্যিক ও আত্মিক দুই দিকের ভারসাম্যে পরিপূর্ণ। নামাজের আত্মিক ভাগ হলো যিকর (স্মরণ)। অর্থাৎ মো’মেন নামাজে দাঁড়ানোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর স্মরণে রত থাকবে। মো’মেন যখন নামাজে দাঁড়াবে তখন সে মনে করবে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছে। সে আল্লাহর সৈনিক। তার মনোভাব হবে এমন- ‘হে আল্লাহ, তুমি তোমার নবীর মাধ্যমে আমাদেরকে যে মহান কাজের দায়িত্ব দিয়েছ, সেই দায়িত্ব পূর্ণ করার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে তোমার সামনে দাঁড়িয়েছি। তুমি দয়া করে আমাদেরকে সেই চরিত্র ও শক্তি দান করো যাতে আমরা তোমার রাস্তায় নিজেদের স্ত্রী-পুত্র পরিজন ও সহায়-সম্পদ উৎসর্গ করে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারি।’ সে যখন রুকুতে যাবে তখন সে মনে মনে আল্লাহর অসীম বিশালতার কথা চিন্তা করবে এবং সেই বিশালতার সামনে অকাতরে নিজের ক্ষুদ্র সত্তাকে সমর্পিত করবে। যখন সেজদায় যাবে তখন সে আল্লাহর অসীম উচ্চতা ও নিজের ক্ষুদ্রতার কথা ভাববে এবং আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজের সত্তাকে বিলীন করে দিবে। এভাবে নামাজের প্রতিটা রোকনে আল্লাহর সঙ্গে তার আত্মিক যোগাযোগ ঘটবে, যা তার ঈমানকে আরও শানিত করবে।

জেহাদহীন নামাজ আল্লাহ কবুল করবেন?
পাঠক, কেউ যদি বলে আমি সামরিক বাহিনীতে ভর্তি হবো, দিনে পাঁচবার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিব, শুধু তাই নয় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ছাড়াও প্রতিদিন বহুবার নিজ উদ্যোগে একাকী প্রশিক্ষণ নিব, নিয়মিত কুচকাওয়াজ করব, প্রশিক্ষণ-বিষয়ক যত বই-পুস্তক আছে তা নিয়ে রাতদিন গবেষণা করব, শুধু একটাই শর্ত- যুদ্ধ করব না, তাহলে তাকে কি সৈন্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে? হবে না। তাকে ব্যারাক থেকে বের করে দেওয়া হবে। কিন্তু একই কাজ আমরা বর্তমানে করছি। আমরা দিনে পাঁচবার বড় বড় মসজিদে ফরজ নামাজ আদায় করছি, ফরজ নামাজ ছাড়াও সুন্নত, বেতের, নফল, তারাবিহ, তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করছি, বাজার থেকে নামাজ শিক্ষার বই কিনে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করছি যাতে নামাজের কোনো নিয়ম কানুনে ভুল না হয়ে যায়, এমনকি হুজুরদের কাছে প্রশ্ন করছি হাতে নেলপলিশ থাকলে নামাজ হবে কিনা, অথচ যেই জেহাদের চরিত্র তৈরির জন্য আল্লাহ নামাজের নির্দেশ দিয়েছেন সেই জেহাদ করি না। জেহাদ বাদ দিয়েছি হাজার বছর আগে। তাহলে আমাদের এই নামাজের কী মূল্য আছে আল্লাহর কাছে? তিনি কি আমাদের এই জেহাদবিহীন নামাজ কবুল করবেন?  

নামাজ নিয়ে এই লেখাটি ইতোমধ্যেই অনেক বড় হয়ে গেছে। আলোচনা আর দীর্ঘ না করে বরং এ পর্যন্ত আমরা যা জানলাম তার একটা সারসংক্ষেপ দিয়ে এখানেই শেষ করছি। 
১. বিশ্বনবীর মিশন ছিল সারা বিশ্বে আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধান প্রতিষ্ঠা করে শান্তি আনয়ন করা।
২. এই বিশাল দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া হিসেবে আল্লাহ নির্ধারণ করেন জেহাদ ফি সাবিলিল্লাহ।
৩. জেহাদ করার জন্য প্রশিক্ষণ লাগে। আল্লাহ সোবহান, তিনি জেহাদ করতে বলবেন কিন্তু জেহাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দিবেন না তা হতে পারে না। প্রশিক্ষণ হিসেবে আল্লাহ দিলেন সালাত, সওম ইত্যাদি আমল। 
৪. নামাজ সাহাবীদেরকে বিশ্বের সর্বশেষ্ঠ, অপরাজেয়, দুর্ধর্ষ যোদ্ধায় পরিণত করেছিল। 
৫. সাহাবীরা অর্ধেক পৃথিবীতে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আত্মার বিরুদ্ধে জেহাদ বড় জেহাদ এই মতবাদের জন্ম দিয়ে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাদ দেয়। 
৬. কোনো বিষয় বা বস্তুর উদ্দেশ্য হারিয়ে গেলে সেটার আর কিছু থাকে না। জেহাদের জন্য নামাজ। যখন জেহাদই বন্ধ হয়ে গেল তখন নামাজ প্রাণহীন আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হলো। পরবর্তীতে নামাজ হয়ে গেল ধ্যান।
৭. বর্তমানে নামাজ পড়া হচ্ছে কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেন না নামাজের উদ্দেশ্য কী। তারা নামাজকে অন্যান্য ধর্মের পূজা-উপাসনা-প্রার্থনার মতোই কিছু একটা মনে করেন।
৮. যেহেতু নামাজের উদ্দেশ্য ভুলে যাওযা হয়েছে, কাজেই বর্তমানের নামাজ আর খালিদ, দেরার, মুসান্নার মতো বীর তৈরি করতে পারছে না। মুসলিম উম্মাহ সহজেই শত্রুর কাছে পরাজিত হচ্ছে, গোলামী করছে।
৯. এখন পুনরায় মুসলিম উম্মাহকে নামাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে হবে এবং নামাজের শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে একজন ইমামের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ও সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে।
 

[লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট; যোগাযোগ: ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৬২১৪৩৪২১৩, ০১৭৮৩৫৯৮২২২]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
 ১ মে ২০২৬    HT All Article

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমিয়েছে চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন
চীনে প্রতি ১০ কর্মদিবস অন্তর বৈশ্বিক তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে এখন চালকদের প্রায়…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    মতামত

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!
কথক দা: আমরা যেন আইয়্যামে গুজবে বাস করছি। অপতথ্য আর অপসংবাদের ভীড়ে কোনটা সত্য আর কোনটা অর্ধসত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা বোঝা খুবই মুশকিল। একসময়…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান
এম আর হাসান:খুররম খান পন্নী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এই তিনটি…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?
শাহাদৎ হোসেন:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ
ওবায়দুল হক বাদল:আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব খাতে ২ লাখ…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?
মুস্তাফিজ শিহাব:বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এক চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে রয়েছে বিপুল জনশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে চরম অবমাননা…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article