প্রচ্ছদ    HT All Article   এত লাশের বোঝা কী করে...

এত লাশের বোঝা কী করে বইবে মুসলিম নেতৃবৃন্দ?

৪ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:২২ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

Stampede-412x336Untitled-214-240x300হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম, এমাম, হেযবুত তওহীদ
……………………………………………………………………..
মিনায় যেভাবে হাজার হাজার হাজী পদপিষ্ঠ হয়ে মর্মান্তিক ও করুণ মৃত্যু বরণ করলেন তাতে দুঃখ প্রকাশের জন্য কোনো ভাষাই যথেষ্ট নয়। মনের গভীরে শুধু একটি প্রশ্নই আন্দোলন করে ফিরছে, কেন এমন হচ্ছে?
.
মুসলমানের জীবন তো এমন সস্তা হওয়ার কথা না? আল্লাহ বহুবার কোর’আনে বলেছেন যে, তিনি মো’মেনের অভিভাবক, রক্ষাকর্তা। তাহলে কেন তিনি মুসলিমদের এহেন দুর্গতিকে সহ্য করছেন, কেন রক্ষা করছেন না?
.
গণমাধ্যমগুলোতে হাজীদের লাশের স্তুপের ছবিগুলো ঘুরেফিরে চোখের সামনে আসছে। আমার মনে পড়ছে রসুলাল্লাহর সেই কথা, একজন মো’মেনের সম্মান কাবার ঊর্ধ্বে।
.
সেই মো’মেন দাবিদারদের যখন এই করুণ মৃত্যু দেখে যে কষ্ট হৃদয়ে অনুভব করছি তা পাঠকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার জন্য লিখার সিদ্ধান্ত নিলাম। শুধু কষ্ট থেকে নয়, আল্লাহর রসুলের একজন গোনাহগার, অধম উম্মত হিসাবে এই ব্যর্থতার দায় ও গ্লানি আমি নিজের আত্মায় অনুভব করছি।
.
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের গোটা জাতির এ পরিস্থিতি কেন হবে? আমরা লাখে লাখে মারা যাচ্ছি বোমার আঘাতে, মরে যাচ্ছি সাগরে ডুবে। এক মুসলিম আরেক মুসলিমকে দেশ থেকে উচ্ছেদ করছে, অন্য মুসলিমরা তাদেরকে ঠাঁই দিচ্ছে না। আমরা লাখে লাখে উদ্বাস্তু হয়ে ইউরোপে আমেরিকার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে করুণাভিক্ষা করছি।
.
এমন কি আমরা হজ্ব করতে গেলাম, সেখানেও পায়ের নিচে চাপা পড়ে মরে যাচ্ছি। রসুল পাক (দ.)-এর জীবনেতো আমরা দেখি না যে উম্মতে মোহাম্মদী একজনের পায়ের নিচে চাপা পড়ে আরেকজন মরে গেছে বা পানিতে ডুবে হাজারে হাজারে মরেছে।
.
তারা জীবন দিতে যুদ্ধক্ষেত্রে কখনো শত্রুর ঘোড়া বা হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে। কিন্তু আজ তাদের এমন দুর্ভাগ্য কেন ঘিরে ধরল? এটা নিয়ে আজকে ভাবতে হবে।
.
বিষয়গুলো স্পর্শকাতর বলে এ পর্যন্ত এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু ক্ষতস্থান স্পর্শকাতরই হয়। তাই বলে কি ক্ষত না সারিয়ে রেখে দেওয়া যায়? যায় না। কারণ তাতে সেই ক্ষত এক সময় মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায়। স্পর্শকাতর বলে কি আমরা চিরটাকাল এভাবেই মৃতের মতো কাটিয়ে যাবো, সংশোধনের চেষ্টা করব না?
.
না, তা আর হতে পারে না। বিশ্ববাসী হাসবে আমাদের এই বিশৃঙ্খলা দেখে, আমাদের এই লক্ষ্যহীনতা দেখে, আমাদের অব্যবস্থাপনা ও কাজকর্ম দেখে। আমরা নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ বলে দাবি করি অথচ দুনিয়াতে আমাদের ন্যূনতম সম্মান নেই, গৌরব নেই।
.
আমরা যুগোপযোগী হওয়ার জন্য, আধুনিক জীবন যাপনের প্রতিটি উপাদানের জন্য, শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, জীবনব্যবস্থা, সংস্কৃতি সবকিছুর জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী। মুসলিম উম্মাহর বাৎসরিক সম্মেলনের জন্য আল্লাহ ব্যবস্থা দিয়েছেন পবিত্র হজ্বের। সেই হজ্বে আমরা বিশ্ববাসীর জন্য ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য নজির স্থাপন করতে পারতাম।
.
যে বিষয়টি আঞ্চলিকভাবে সমাধান করা যায় না, সেটি জাতীয়ভাবে বসে যেন সমাধান করা যায় সেজন্যই আল্লাহ হজ্বের ব্যবস্থা রেখেছেন। হজ্ব নিছক আধ্যাত্মিক কোনো তীর্থযাত্রা নয়, তীর্থযাত্রার হজ্ব তো রসুলাল্লাহর আগমনের আগেই ছিল।
.
মহানবী (দ.) সেই হজ্বকে আধ্যাত্মিক প্রেরণার পাশাপাশি জাতির সামষ্টিক কল্যাণার্থে কাজের লাগানোর লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন। হজ্ব ছিল কোরাইশদের ব্যবসার মাধ্যম, সেখান থেকে আল্লাহর রসুল একে নিঃস্বার্থ ও কল্যাণমুখী সম্মেলনের রূপ দিলেন এবং জাহেলিয়াতের চিহ্নমুক্ত করে শালীন করলেন।
.
আল্লাহ এই জাতিকে এমনভাবে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল হওয়ার জন্য রসুলাল্লাহর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করেছেন যার উপমা আল্লাহ দিয়েছেন গলিত সীসার তৈরি প্রাচীরের সঙ্গে (সুরা সফ ৪)।
.
হজ্বের সেই উদ্দেশ্য আমাদেরকে বুঝতে হবে। যেমন জামাতে নামাযের উদ্দেশ্য হলো মুসলিম পাঁচবার তাদের স্থানীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র মসজিদে একত্র হবে, তাদের স্থানীয় সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা পরামর্শ করবে, সিদ্ধান্ত নেবে, তারপর স্থানীয় ইমামের নেতৃত্বে তার সমাধান করবে।
.
তারপর সপ্তাহে একদিন বৃহত্তর এলাকায় জামে মসজিদে জুমা’র নামাযে একত্র হয়ে ঐ একই কাজ করবে। তারপর বছরে একবার আরাফাতের মাঠে পৃথিবীর সাদা-কালো, তামাটে-বাদামি এক কথায় সমস্ত মুসলিমদের নেতৃস্থানীয়রা একত্র হয়ে জাতির সর্বরকম সমস্যা, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ইত্যাদি সর্বরকম সমস্যা, বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে, পরামর্শ করবে, সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ স্থানীয় পর্যায় থেকে ক্রমশ বৃহত্তর পর্যায়ে বিকাশ করতে করতে জাতি পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু মক্কায় একত্রিত হবে। একটি মহাজাতিকে ঐক্যের সুদৃঢ় বন্ধনে বেঁধে রাখার কী সুন্দর প্রক্রিয়া। কী অপূর্ব সিস্টেম।
.
আজ এ জাতির মধ্যে জামাতে পাচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ ও হজ্বের এই উদ্দেশ্য কতটুকু স্মরণে আছে? হজ্বের সময় চলছে জাতিসংঘে সম্মেলন। জানি না পশ্চিমারা ইচ্ছা করে এ সময়ে অধিবেশন ডেকেছে কিনা।
.
গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্য মোতাবেক প্রায় সকল মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ সফরসঙ্গীরা জাতিসংঘ দফতরে অবস্থান করছেন। তারা ভুলে গেছেন যে তাদের কেবলা নিউ ইয়র্ক নয়, ইংল্যান্ড বা মস্কোও নয়, তাদের কেবলা ক্বাবা শরীফ যেখানে হজ্ব করতে গিয়ে অব্যবস্থার দরুণ পদপিষ্ঠ হয়ে মারা গেছেন হাজার হাজার হাজী যাদের মতো ধর্মবিশ্বাসী মানুষের ভোটেই নেতৃত্ব উপভোগ করছেন আমাদের নেতারা।
.
এ দুর্ঘটনার দায় তাই কেবল আরব সরকারের নয়, সকল মুসলিম নেতৃবৃন্দের। কেননা হজ্ব নিয়ে চরম অব্যবস্থা, স্বার্থপরতার বাণিজ্য ও হাজীদের ভোগান্তি তো প্রতিটি পর্যায়ে রয়েছে।
.
যাই হোক, ঘোর সংকটময় সময় পার করছে জাতি। সেই আফ্রিকা থেকে চীন সীমান্ত পর্যন্ত বসবাসকারী সমগ্র মুসলিম জনগোষ্ঠী ভয়াবহ সমস্যায় আক্রান্ত। এই হজ্বের সময় সমগ্র উম্মাহর নেতৃবৃন্দ যদি একত্র হয়ে এই জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধানকল্পে বসতেন তবে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো দিক বেরিয়ে আসতো।
.
কিন্তু তারা চলে গেছেন নিউইয়র্কে। আর এই সাধারণ ধর্মবিশ্বাসী মানুষগুলো লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে যেয়ে সেখানে নিদারুণ অব্যবস্থাপনার মধ্যে আরব ধনকুবের শেখ আর যুবরাজদের প্রটোকল রক্ষার্থে পদদলিত হয়ে জীবন দিচ্ছে। এদের মৃত্যুর দায় কে নেবে?
.
ইরান দায়ী করছে সৌদি সরকারকে, অন্যদিকে আফ্রিকা থেকে আগত কিছু হাজীদের বিশৃঙ্খলাকেও দায়ী করছে সৌদি রাজ কর্তৃপক্ষ। উল্টোপক্ষে সৌদি গণমাধ্যমগুলো ইরানের হাজীদেরকেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টির জন্য দায়ী করছে। কেউ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছে, কেউ হাজীদেরকে দায়ী করছে– এমন পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যে বোঝা মুশকিল যে আসলে কে দায়ী, নাকি সবাই নির্দোষ?
.
আরবের গ্র্যান্ড মুফতি যথারীতি তার চাকরির স্বার্থে এ দায় যুবরাজের কাঁধ থেকে সরিয়ে নিয়তির কাঁধে চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, “এ ঘটনা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। কেননা ভাগ্য ও নিয়তি মানুষের অবধারিত বিষয়”।
.
বিবিসির ভাষ্যমতে এই মন্তব্য মুসলিম বিশ্বের সাধারণ মানুষকে আরো বিক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে। আমরাও বিশ্বাস করি, এটা মুসলমানদের নিয়তি হতে পারে না। এটা আমাদের বিশৃঙ্খলার পরিণতি তথা কর্মফল মাত্র।
.
কারণ বিদায় হজ্বের ভাষণে আল্লাহর রসুল বলেছিলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ উদ্দেশ্যে অন্য কোন মুসলিমকে ধাক্কা দেওয়া কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। আমি কি বলব মুসলিম কে? মুসলিম ঐ ব্যাক্তি, যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ; মো’মেন ঐ ব্যাক্তি, প্রাণ ও সম্পত্তির নিরাপত্তার ব্যাপারে যার উপর মানুষ আস্থা রাখতে পারে। (সিরাত বিশ্বকোষ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)।
.
তাহলে সৌদি যুবরাজের নিরাপত্তা রক্ষীরা কীভাবে যুবরাজের চলার পথ করে দেওয়ার জন্য অন্য হাজীদেরকে পিটিয়ে জায়গা করতে পারেন? প্রকৃত ইসলামের সময় কি এমন জাহেলিয়াত কল্পনা করা যেত? অবশ্যই না। রসুলাল্লাহ (দ.) শক্তভাবে বলেছেন, “অনারবের উপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।”
.
অথচ আজকের আরবরা বিশ্বের অন্য দেশের মুসলিমদেরকে মিসকিন মনে করে। সংবাদে প্রকাশ, সেখানে ধনী দেশের হাজীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে আর গরীব দেশের হাজীদের জন্য অব্যবস্থা থাকে। ইসলামের অভিভাবক সেজে এত বড় অবিচার যারা করতে পারে তাদের কাছে ইসলাম কতটা মূল্য আর বাণিজ্যের কতটুকু মূল্য তা সহজেই অনুমেয়।
.
যারা মুসলিম তাদেরকে এই পরিস্থিতি পাল্টানোর ব্যাপারে অবশ্যই সোচ্চার হতে হবে, কারণ আল্লাহর ঘর ক্বাবা তওয়াফ করার অভিলাস সব মুসলিমই পোষণ করেন।
.
আল্লাহ এই গৃহকে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির ঐক্যসূত্র হিসাবে স্থাপন করেছেন কেননা এই গৃহের সঙ্গে আদি পিতা আদমের (আ.) স্মৃতি জড়িত, নূহ (আ.), এব্রাহীম (আ.), ইসমাইল (আ.), শেষ নবী মোহাম্মদ (দ.) এর পবিত্র স্মৃতিও জড়িত।
.
আমরা ক্বাবার অভিমুখে সেজদাহ করি, তাই কাবা প্রাঙ্গণের পবিত্রতা রক্ষা, হজ্ব ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলা, কাবা ও হজ্বের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ইত্যাদি সবকিছু নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এই সমস্যা আমাদের সবার সঙ্গে সম্পর্কিত। মুসলিম উম্মাহর প্রাণকেন্দ্র ক্বাবা এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় রসুল পাক (দ.) এর রওজা মোবারক যথাক্রমে মক্কা ও মদীনায় অবস্থিত।
.
কিন্তু এই পবিত্র স্থানগুলো আরবের নয়, কেননা রসুলাল্লাহ পুরো মানবজাতির রসুল। আল্লাহ বলেন, কুল, ইয়া আইয়্যুহান নাস, ইন্নি রাসুল্লিাহি ইলাইকুম জামিয়া অর্থাৎ “বলে দাও, হে মানব মণ্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসুল। (সুরা আরাফ ১৫৮)। তাঁকে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ (রহমাতাল্লিল আলামীন) প্রেরণ করা হয়েছে।
.
কবি নজরুল যে মদীনার ধুলিমাখা পথ হওয়ার জন্য আফসোস করেছেন, কারণ সেই পথে আল্লাহর রসুল হেঁটে গেছেন। সেই পবিত্র মক্কা-মদীনার ইজারাদার সেজে আরব রাজতন্ত্র ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করছে।
.
আমরা যদি এভাবে চিন্তা করি যে, আমরা সত্য কথা বলব না, সত্য বললে অমুক নাখোশ হবে, অমুকে আমার বিরুদ্ধে ফতোয়া দেবে তাহলে এভাবেই জীবন যাবে আমাদের, এভাবেই আমরা মহানবীর ভবিষ্যদ্বাণীর ভেসে যাওয়া আবর্জনার মত হয়ে যাব।
.
উম্মাহর ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে বলতে যেয়ে রসুলাল্লাহ (দ:) একদিন বললেন- “শীঘ্রই এমন দিন আসছে যে অন্যান্য জাতিসমূহ এই উম্মাহর বিরুদ্ধে একে অপরকে ডাকবে যেমন করে (খানা পরিবেশন করার পর) একে অন্য সবাইকে খেতে ডাকে।”
.
তাঁকে প্রশ্ন করা হলো “আমরা কি তখন সংখ্যায় এত নগণ্য থাকবো?” তিনি বোললেন, “না, তখন তোমরা সংখ্যায় অগণিত হবে, কিন্তু হবে স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মত। আল্লাহ তোমাদের শত্র“র মন থেকে তোমাদের স¤পর্কে ভয়-ভীতি উঠিয়ে নেবেন এবং তোমাদের হৃদয়ের মধ্যে দুর্বলতা নিক্ষেপ করবেন।”
.
কেউ প্রশ্ন করলেন, “ইয়া রসুলাল্লাহ! এই দুর্বলতার কারণ কী হবে?” তিনি জবাব দিলেন, “দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও মৃত্যুর প্রতি অনীহা [হাদীস- সাওবান (রা:) থেকে আবু দাউদ মেশকাত]।
.
এখন আমাদের, সত্যনিষ্ঠ মো’মেনদের, যারা সত্যিকারভাবে আল্লাহকে পেতে চায়, রসুলকে ভালোবাসে, দীনকে ভালোবাসে, আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করতে চায় তাদেরকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে।
.
এতগুলো মানুষের মৃত্যু দেখে কষ্ট পেয়ে দু’দিন পর ভুলে গেলে হবে না, এর সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে, অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকে মুসলিম উম্মাহর সমস্যা মুসলিম উম্মাহকেই সমাধান করতে হবে। এই উম্মাহ যতদিন না তাদের মূল পরিচয়ে ফিরে যাবে, যতদিন না ঐক্যবদ্ধ হবে, তবে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
.
আসুন আমরা সবাই মিলে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করি, তিনি যেন আমাদের ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বোঝার জ্ঞান দেন, সত্যের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর হিম্মত দেন।
.
আমীন। ছূম্মা আমীন।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
 ১ মে ২০২৬    HT All Article

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমিয়েছে চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন
চীনে প্রতি ১০ কর্মদিবস অন্তর বৈশ্বিক তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে এখন চালকদের প্রায়…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    মতামত

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!
কথক দা: আমরা যেন আইয়্যামে গুজবে বাস করছি। অপতথ্য আর অপসংবাদের ভীড়ে কোনটা সত্য আর কোনটা অর্ধসত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা বোঝা খুবই মুশকিল। একসময়…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান
এম আর হাসান:খুররম খান পন্নী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এই তিনটি…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?
শাহাদৎ হোসেন:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ
ওবায়দুল হক বাদল:আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব খাতে ২ লাখ…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?
মুস্তাফিজ শিহাব:বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এক চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে রয়েছে বিপুল জনশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে চরম অবমাননা…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article