প্রচ্ছদ    HT All Article   উম্মতে মোহাম্মদীর উত্থান ও পতনের...

উম্মতে মোহাম্মদীর উত্থান ও পতনের নেপথ্যে

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:০১ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

(ইফেইসড পার্ট)- ইসলামের চেপে রাখা ইতিহাস

77আমাদের, অর্থাৎ আমরা যারা নিজেদের মো’মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদী বলে মনে করি, আমাদের ইতিহাস কি? আমরা কোথা থেকে এসেছি, কেমন করে আমাদের জন্ম হয়েছে, কেন আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, কি উদ্দেশ্যে আমাদের একটি জাতি হিসেবে গঠন করা হয়েছে? আজকের এই প্রায় ১৬০ কোটির জাতির মনে এই প্রশ্নগুলি জাগে না। কেউ এই প্রশ্নগুলি করলে একশ’ ষাট কোটির কাছ থেকে অন্তত দশকোটি রকমের বিভিন্ন উত্তর পাওয়া যায়। চৌদ্দশ’ বছর আগে যখন এই জাতিটির জন্ম হয়েছিল আল্লাহর রসুল তাঁর অক্লান্ত চেষ্টা, অতুলনীয় ত্যাগ, অবিচল নিষ্ঠা, অটল অধ্যবসায় এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে এই জাতিটিকে গঠন করেছিলেন তখন কিন্তু ঐ জাতির প্রত্যেকটি মানুষকে উপরোক্ত ঐ প্রশ্নগুলি করলে সবাই একই উত্তর দিতেন, কোনো মতভেদ ছিল না। ঐ জাতির ইতিহাস হচ্ছে এই যে, জাতিটি গঠিত হবার পঁচিশ বছরের মধ্যে তদানীন্তন পৃথিবীর দুইটি মহাশক্তিকে সশস্ত্র সংগ্রামে, যুদ্ধে পরাজিত করে সমগ্র মধ্য এশিয়ায় আল্লাহর আইনের শাসন কার্যকরী করেছিল। ঐ মহাশক্তিশালী সাম্রাজ্য দুইটি ছিল রোমান ও পারসিক, একটি খ্রিষ্টান অপরটি অগ্নি উপাসক। সংখ্যায়, সম্পদে, সামরিক বাহিনীর সংখ্যায়, অস্ত্রশস্ত্রে, এক কথায় সবদিক দিয়ে ঐ দুইটি বিশ্বশক্তি ছিল ঐ শিশু জাতির চেয়ে বহুগুণে বড় কিন্তু তবুও তারা ঐ সদ্য প্রসূত ছোট্ট জাতির সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। তারপর ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ঐ জাতিটি তখনকার দিনের অর্ধেক পৃথিবী জয় করে আল্লাহর আইনের শাসনের অধীনে নিয়ে এলো। এই পর্যন্ত ঐ জাতির ইতিহাস তাদের চেয়ে বহুগুণে শক্তিশালী শক্তির বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন সামরিক বিজয়ের ইতিহাস।
উম্মতে মোহাম্মদীর এই সংগ্রাম কিসের লক্ষ্যে?
ঐ সামরিক বিজয়ের উদ্দেশ্য কি ছিল? সাম্রাজ্য? নাকি অন্য ধর্মের লোকজনকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা? না, এর কোনোটাই নয়। এর উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ছিল ঠিক তাই যে উদ্দেশ্য, যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য আল্লাহর নির্দেশে তাঁর শেষ রসুল এই জাতিটিকে, এই উম্মাহটি গঠন করেছিলেন, আর সেটি হলো সশস্ত্র সংগ্রাম করে সমস্ত পৃথিবীতে আল্লাহর আইন-কানুন অর্থাৎ দীন প্রতিষ্ঠা ও কার্যকরী করে মানব জাতির ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনের সমস্ত অন্যায়, অবিচার, শোষণ, অত্যাচার নিঃশেষ করে দিয়ে ন্যায়, সুবিচার, নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। আর এই জন্যই এই দীনের নাম ইসলাম, আক্ষরিক অর্থেই শান্তি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত, আদম (আ.) থেকে মোহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত ঐ একই নাম, ইসলাম বা শান্তি। আজ আমাদের ধর্মীয় ও অধর্মীয় (অর্থাৎ রাজনৈতিক) নেতারা যে অর্থে ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলেন তার ঠিক বিপরীত অর্থ। উম্মতে মোহাম্মদী মানুষের জাতীয় জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সংগ্রামের মাধ্যমে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে একটি মানুষকেও তারা তার ধর্ম ত্যাগ করে এই দীন গ্রহণে বাধ্য করেননি। অর্ধেক পৃথিবীতে আল্লাহর আইন প্রবর্তন করার ফলে ঐ সমস্ত এলাকায় লুপ্ত হয়ে গেল শোষণ, অবিচার, অন্যায়, নিরাপত্তাহীনতা অর্থাৎ ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা। প্রতিষ্ঠিত হলো সুবিচার; ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত, অর্র্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সুবিচার ও নিরাপত্তা; এক কথায় শান্তি।
উম্মতে মোহাম্মদীর উদ্দেশ্যচ্যুতি
রসুলাল্লাহর ওফাতের ৬০/৭০ বছর পর্যন্ত উম্মতে মোহাম্মদী একদেহ একপ্রাণ হয়ে সংগ্রাম চালিয়ে গেল। তারা বিশ্বের সকল জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ কোরল। এরপর ঘটলো এক মহা-দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ঐ জাতি হঠাৎ তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ভুলে গেল। জাতি ভুলে গেল যে কাজের জন্য তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে সেই কাজ ছেড়ে দেওয়া আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। কিন্তু জাতির লোকদের আকিদা অর্থাৎ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্বন্ধে ধারণা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় জাতি ঠিক তাই কোরল, আল্লাহর দীন সমস্ত পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জেহাদ অর্থাৎ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ত্যাগ কোরল এবং ত্যাগ করে অন্যান্য রাজা বাদশাহরা যেমন রাজত্ব করে তেমনি শান শওকতের সঙ্গে তাদের মতই রাজত্ব করতে শুরু কোরল। এই সর্বনাশা কাজের পরিণতি কি তা তারা উপলব্ধি করতে পারলেন না। তারা উপলব্ধি করতে পারলেন না যে, যে জিনিস যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয় সেটা যদি সেটাকে দিয়ে না হয়, তবে আর ঐ জিনিসের কোনো দাম থাকে না, সেটা অর্থহীন হয়ে যায়। একটা ঘড়ির উদ্দেশ্য হচ্ছে সময় জানা, ঘড়িটা যদি না চলে, সময় না দেখায়, এমন কি যদি ভুল সময় দেখায় তবে আর সে ঘড়িটার কোনো দাম থাকে না। ঘড়িটা সোনা, হীরা জহরত দিয়ে তৈরি করলেও না।
মো’মেনের সংজ্ঞা থেকে বিচ্যুতি
শান-শওকতের সঙ্গে রাজত্ব করার মোহ তাদের এমনভাবে পেয়ে বোসলো যে তারা ভুলে গেলেন আল্লাহ কোর’আনে মো’মেন হবার যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তার মধ্যে ঐ জেহাদ অঙ্গীভূত করা আছে। সুরা হুজরাতের ১৫নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন-“সত্যনিষ্ঠ মো’মেন শুধু তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তারপর (সে সম্বন্ধে) আর কোনো সন্দেহ করে না (অর্থাৎ এ বিশ্বাসের উপর দৃঢ়, অবিচল থাকে) এবং তাদের সম্পদ ও প্রাণ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে।” আল্লাহ প্রদত্ত মো’মেনের এই সংজ্ঞা থেকে জাতি বিচ্যুত হয়ে গেল।
রসুলাল্লাহর কাজই উম্মতের কাজ
বিশ্বনবী (সা.) তাঁর উম্মাহকে পরিস্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার চলে যাবার পর তিনি যেমন করে সংগ্রাম করে সমস্ত আরবে দীন প্রতিষ্ঠা করলেন, ঠিক তেমনি করে বাকি দুনিয়ায় ঐ দীন প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পিত হবে। এটাকে নবীজী (সা.) বললেন “আমার প্রকৃত সুন্নাহ”, অর্থাৎ আমি সারা জীবন যা করে গেলাম, এবং এও বললেন যে, যে আমার এই সুন্নাহ ত্যাগ করবে সে বা তারা আমার কেউ নয় (বোখারী, মুসলিম); অর্থাৎ আমার উম্মত নয়। তারা উম্মতে মোহাম্মদীর দাবি করতে পারে না।
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে প্রথম যিনি মহানবী (সা.) কে প্রেরিত বলে স্বীকার করে এই দীনে তথা ইসলামে প্রবেশ করলেন; অর্থাৎ আবু বকর (রা:) মুসলিম হয়েই রসুলাল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন- “হে আল্লাহর রসুল! এখন আমার কাজ কি? কর্তব্য কি? মহান আল্লাহর প্রেরিত শেষ নবী (সা.) উত্তর দিয়ে বললেন, “এখন থেকে আমার যে কাজ তোমারও সেই কাজ”। ইতিহাসে পাচ্ছি, শেষ ইসলামকে গ্রহণ করার দিনটি থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আবু বকরের (রা:) কাজ একটাই হয়ে গিয়েছিল, সেটা ছিল মহানবীর (সা.) সংগ্রামে তার সাথে থেকে তাকে সাহায্য করা। শুধু আবু বকর (রা:) নয়, যে বা যাঁরা নবীজী (সা.) কে বিশ্বাস করে মুসলিম হয়েছেন সেই মুহূর্ত থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি বা তারা বিশ্বনবীকে (সা.) তার ঐ সংগ্রামে সাহায্য করে গেছেন, তাঁর প্রকৃত সুন্নাহ পালন করে গেছেন।
আর কেমন সে সাহায্য! স্ত্রী-পুত্র পরিবার ত্যাগ করে, বাড়ি-ঘর সহায়-সম্পত্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য ত্যাগ করে, অর্ধাহারে-অনাহারে থেকে, নির্মম অত্যাচার সহ্য করে, অভিযানে বের হয়ে গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন বিসর্জন দিয়ে। এই হলো তাঁর উম্মাহ, উম্মতে মোহাম্মাদী তাঁর প্রকৃত সুন্নাহ পালনকারী জাতি।
রসুলাল্লাহর বিদায় নেওয়ার ৬০/৭০ বছর পর এই জাতি জেহাদ ত্যাগ করেই ক্ষান্ত হলেন না। তারা রসুলের সুন্নাহরও ভিন্ন সংজ্ঞা আবিষ্কার করলেন। ইতিহাস সাক্ষী যতোদিন তিনি এই দুনিয়ায় ছিলেন ততোদিন তিনি ও তাঁর আসহাব একদেহ একপ্রাণ হয়ে আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার জন্য মাত্র ১০ বছরের মধ্যে ১০৭টি ছোট বড় যুদ্ধ করেছেন। তারপর যখন আল্লাহর রসুল এই দুনিয়া থেকে চলে গেলেন তখন ঐ দায়িত্ব স্বভাবতই এসে পড়লো তাঁর গঠন করা জাতিটির ওপর। শুধু আরব দেশটাকে আল্লাহর আইনের শাসনের মধ্যে আনা হয়েছে; বাকি পৃথিবী মানুষের তৈরি আইনের অধীনে চোলছে। রসুলাল্লাহর নিজ হাতে গড়া জাতিটি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন যে, উম্মতে মোহাম্মদীর অস্তিত্বের অর্থই হলো তাদের নেতা বিশ্বনবীর সুন্নাহ অনুসরণ করা। তারা তাদের এই দায়িত্ব সম্বন্ধে এতো সচেতন ছিলেন যে, নেতার দুনিয়া থেকে চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি-ঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষেত-খামার, পরিবার পরিজন, এক কথায় পার্থিব সব কিছু কোরবান করে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পূর্ণ করতে অস্ত্র হাতে তাদের স্বদেশ আরব থেকে বের হয়ে পড়েছিলেন। জেহাদ ছেড়ে দেবার পর নবীর সুন্নাহর বিকল্প হিসাবে নেয়া হলো তাঁর ব্যক্তিগত অভ্যাস-অনভ্যাস, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি যে গুলোর সাথে তাঁর জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য, তাঁর উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্বের কোনো সম্বন্ধই নেই; যেগুলো নেহায়েৎ ব্যক্তিগত ব্যাপার। নিষ্ঠুর পরিহাস এই যে, জেহাদ ত্যাগকারীদের কাছে মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম বিপ্লবীর সুন্নাহ হয়ে দাঁড়ালো, তাঁর বিপ্লব নয়, তাঁর মেসওয়াক করা, খাবার আগে জিহবায় একটু নিমক দেওয়া, খাবার পর একটু মিষ্টি খাওয়া, ডান পাশে শোয়ার মত ছোট-খাট অসংখ্য তুচ্ছ ব্যাপার। মানুষের ইতিহাসে কোনো জাতি তার নেতার এমন অপমানকর অবমূল্যায়ন করেছে বলে আমাদের জানা নেই।
দাসত্ত্বের যুগ: শিক্ষাব্যবস্থায় ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র
আল্লাহ সুরা তওবায় ৩৮ এবং ৩৯ নং আয়াতে এই জাতিকে জেহাদ ছেড়ে দেবার পরিণতি সম্বন্ধে এই বলে সাবধান করে দিয়েছেন- “যদি তোমরা সামরিক অভিযানে বের না হও তবে তিনি তোমাদের কঠিন শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের স্থলে অন্য কোনো জাতিকে প্রতিষ্ঠা করবেন” অর্থাৎ তোমাদের অন্য কোনো জাতির দাস, গোলাম বানিয়ে দেবেন। এই কঠোর সতর্কবাণী সত্ত্বেও আকিদা অর্থাৎ জাতির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্বন্ধে সঠিক সম্যক ধারণার (Comprehensive Conception) বিকৃতিতে এই জাতি জেহাদ ছেড়ে দিয়ে নফসের সাথে নিরাপদ জেহাদ শুরু কোরল। আল্লাহও তাঁর প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী কিছুদিন পরই ইউরোপের খ্রিষ্টান জাতিগুলিকে দিয়ে ঐ জাতিকে সামরিকভাবে পরাজিত ও পর্যুদস্ত করে শাসনভার ও কর্তৃত্ব তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে খ্রিষ্টানদের হাতে তুলে দিলেন। ঐ জাতিকে দাসে পরিণত করার পর খ্রিষ্টান প্রভুরা তাদের উপরে আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে নিজেদের তৈরি করা জীবনব্যবস্থা চাপিয়ে দিল। কোনো জাতি যদি আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থার বদলে অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা মেনে নেয়, তখন তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে আর মো’মেন মুসলিম থাকে না, কাফের ও মোশরেক হয়ে যায়। এই জাতিও কার্যতঃ কাফের ও মোশরেক হয়ে গেল। ভবিষ্যতে এই জাতিটি যেন আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য খ্রিষ্টান শাসকরা কিছু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা কোরল। তার একটি হচ্ছে তারা তাদের অধিকৃত মুসলিম দেশগুলিতে পাশাপাশি দু’টি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন কোরল। একটি সাধারণ শিক্ষা এবং অপরটি মাদ্রাসা শিক্ষা। বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে শাসকরা তাদের পছন্দমত একটি ইসলাম শিক্ষা দেবার জন্য তাদের অধিকৃত সমস্ত মুসলিম দুনিয়ায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা কোরল। এই মাদ্রাসায় “ইসলাম” শিক্ষা দেবার জন্য খ্রিষ্টান পণ্ডিতরা বহু গবেষণা করে একটি নুতন “ইসলাম” দাঁড় করালেন, যে “ইসলামের” বাহ্যিক দৃশ্য ইসলামের মতই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটার আকিদা এবং চলার পথ আল্লাহর রসুলের ইসলামের ঠিক বিপরীত। এই সিলেবাসে নামাজ, রোযা, বিয়ে-শাদী, বিবি তালাক, দাড়ি-টুপি, পাজামা, পাগড়ি, মেসওয়াক, কুলুখ, ওজু গোসল, হায়েয-নেফাস ইত্যাদি হাজার রকমের বিষয়গুলিকে ইসলামের অতি জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে উপরে স্থান দেয়া হলো। পক্ষান্তরে তওহীদকে ব্যক্তিগত বিষয়ে পরিণত করা হলো এবং তওহীদের ঠিক পরেই যে জেহাদের স্থান সেই জেহাদকে অতি অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে পরিণত করে প্রায় বাদ দেওয়া হলো। এই শিক্ষাব্যবস্থায় অংক, ভূগোল, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদির কোনো কিছুই রাখা হলো না, যেন মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে এসে আলেমদের রুজি-রোজগার করে খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য এই দীন, ধর্ম বিক্রি করে রোজগার করা ছাড়া আর কোনো পথ না থাকে এবং যেন তাদের ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে বিকৃত ইসলামটা এই জনগোষ্ঠীর মন-মগজে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়;
অপরদিকে ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাটি তারা চালু কোরল স্কুল কলেজের মাধ্যমে। এ ভাগটা তারা কোরল তাদের এই বিরাট এলাকা শাসন করতে যে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কেরাণীর কাজ করার উপযুক্ত জনশক্তি তৈরি করতে। তারা এতে ইংরেজি ভাষা, সুদভিত্তিক অংক, বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক, ভূগোল, প্রযুক্তিবিদ্যা অর্থাৎ পার্থিব জীবনে যা যা প্রয়োজন হয় তা শেখানোর বন্দোবস্ত রাখলো; সেখানে আল্লাহ, রসুল, আখেরাত ও দীন সম্বন্ধে প্রায় কিছুই রাখা হলো না। তাদেরকে এমনভাবে শিক্ষা দেওয়া হলো যাতে তাদের মন শাসকদের প্রতি হীনম্মন্যতায় আপ্লুত থাকে এবং পাশাপাশি তাদের মন-মগজে আল্লাহ, রসুল, দীন সম্বন্ধে অপরিসীম অজ্ঞতাপ্রসূত বিদ্বেষ (A hostile attitude) সৃষ্টি হয়। আজ আমাদের রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক জীবন পরিচালিত হচ্ছে পাশ্চাত্যের খ্রিষ্টানদের তৈরি করা নানা রকম তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে আর ব্যক্তিগত ধর্মীয় জীবন পরিচালিত হচ্ছে খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের তৈরি করা বিকৃত “ইসলাম” দিয়ে, আল্লাহ রসুলের ইসলাম দিয়ে নয়। ভাবতে অবাক লাগে এর পরও আমরা নিজেদের মো’মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদী বলে বিশ্বাস কোরি এবং পরকালে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাতের আশা কোরি।
আল্লাহ কোর’আনের বিভিন্ন স্থানে এবং সুরা নূরের ৫৫ নং আয়াতে মো’মেনদের এই পৃথিবীর আধিপত্য ও কর্তৃত্বের প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে যতোদিন ঐ জাতি, জাতি হিসাবে জেহাদ চালিয়ে গেছে ততোদিন আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন- অর্ধেক পৃথিবীতে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ঐ জাতি যদি তখন জেহাদ ত্যাগ না করত তবে অবশ্যই আল্লাহ বাকি অর্ধেকও তাদের হাতে তুলে দিতেন। আল্লাহর ঐ প্রতিশ্র“তির মধ্য থেকে আরেকটি সত্য ফুটে ওঠে- সেটা হলো, আমরা নিজেদের মো’মেন অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রসুলে বিশ্বাসী বলে দাবি কোরি। তাহোলে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পৃথিবীর কর্তৃত্ব, আধিপত্য আমাদের হাতে নেই কেন? তহোলে সেই সর্বশক্তিমান কি তাঁর প্রতিশ্র“তি রক্ষা করতে অসমর্থ (নাউযুবেল্লাহ মেন যালেক)? এর একমাত্র জবাব হচ্ছে- আমরা যতই নামাজ পড়ি, রোযা রাখি, যতোই হাজার রকম এবাদত করি, যতোই মুত্তাকী হই, আমরা মো’মেন নই, মুসলিম নই, উম্মতে মোহাম্মদী হবার তো প্রশ্নই ওঠে না। মো’মেন হলে (ইন্ কুন্তুম্ মো’মেনীন) যে পৃথিবীর ওপর আধিপত্যের অঙ্গীকার আল্লাহ করেছেন, সেই পৃথিবীতে আজ আমাদের অবস্থা কী? আমাদের অবস্থা হচ্ছে: (ক) পৃথিবীতে যে কয়টি প্রধান জাতি আছে তার মধ্যে আমরা নিকৃষ্টতম। (খ) আমাদের ছাড়া আর যে কয়টি জাতি আছে তারা সকলেই পৃথিবীর সর্বত্রই আমাদের অপমানিত, অপদস্ত, করছে, আমাদের আক্রমণ করে হত্যা করছে, আমাদের ধন-সম্পদ লুটে নিচ্ছে, আমাদের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, আমাদের মা, মেয়ে, বোনদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করে সতীত্ব নষ্ট করছে। (গ) ইসলাম অর্থ শান্তি। অথচ এই জাতি নিজেরা হাজার হাজার ভাগে বিভক্ত হয়ে মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, রক্তপাত কোরছি এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, গোলামি এক কথায় চরম অশান্তিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। সুতরাং এটা সন্দেহাতীত যে, এ জাতি মো’মেন মুসলিম নয় এবং এরা যে ইসলামটা প্রাণপণে পালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে সেটাও আল্লাহ রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয়।
[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, বিশেষ প্রতিবেদন ইত্যাদির বিষয়ে মতামতের জন্য ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৯৩৩৭৬৭৭২৫, ০১৭৮২১৮৮২৩৭, ০১৬৭০১৭৪৬৪৩]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
 ১ মে ২০২৬    HT All Article

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমিয়েছে চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন
চীনে প্রতি ১০ কর্মদিবস অন্তর বৈশ্বিক তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে এখন চালকদের প্রায়…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    মতামত

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!
কথক দা: আমরা যেন আইয়্যামে গুজবে বাস করছি। অপতথ্য আর অপসংবাদের ভীড়ে কোনটা সত্য আর কোনটা অর্ধসত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা বোঝা খুবই মুশকিল। একসময়…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান
এম আর হাসান:খুররম খান পন্নী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এই তিনটি…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?
শাহাদৎ হোসেন:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ
ওবায়দুল হক বাদল:আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব খাতে ২ লাখ…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?
মুস্তাফিজ শিহাব:বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এক চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে রয়েছে বিপুল জনশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে চরম অবমাননা…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article