প্রচ্ছদ    HT All Article   আকিদা ভুলে যাওয়ার পরিণতি

আকিদা ভুলে যাওয়ার পরিণতি

২৩ জুন ২০১৮ ০৯:১৮ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মোহাম্মদ আসাদ আলী
আল্লাহ রব্বুল আলামিন মানবজাতিকে হেদায়াহ দেওয়ার জন্য বাবা আদম থেকে শেষ নবী পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ নবী-রসুল পাঠিয়েছেন। পূর্বপবর্তী নবী-রসুলগণ এসেছেন যার যার অঞ্চল, সম্প্রদায়, জাতি এমনকি পরিবারের জন্যও। কিন্তু সর্বশেষ যিনি এসেছেন, আখেরী নবী মোহাম্মদ (সা.), তাঁর আগমন সমস্ত মানবজাতির জন্য। তিনি মানবজাতির উদ্দেশে বলেছেন, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর প্রেরিত রসুল (আরাফ: ১৫৮)।’ সমস্ত মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন বলে তাঁর টাইটেল হলো ‘রহমাতাল্লিল আলামিন’ (আম্বিয়া: ১০৭) অর্থাৎ সারা বিশ্বের জন্য রহমত। এই যে তিনি সারা বিশ্বের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আবির্ভূত হলেন, তিনি কী নিয়ে আসলেন, কেনই বা আসলেন, তাঁর নবুয়তি জিবনীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টিকে এক নজরে দেখা ও বোঝার নামই হচ্ছে রসুলাল্লাহ সম্পর্কে আকীদা। যারা রসুলের অনুসারী হবেন, উম্মতে মোহাম্মদী হবেন, তাদের এই আকীদা অবশ্যই পরিষ্কার থাকতে হবে।
আজ বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান বিশ্বাস করছেন আখেরী নবী মোহাম্মদ (সা.) সত্যিই আল্লাহর প্রেরিত নবী, কিন্তু তাঁর সামগ্রিক জীবন সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকায় অর্থাৎ আকীদা না জানায় একেকজন একেকভাবে তাঁর সম্পর্কে ধারণা করে নিচ্ছেন। আল্লাহর রসুল সশস্ত্র জিহাদ করেছেন। ব্যস, এই উদ্ধৃতি দিয়ে একদল মানুষ জিহাদের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন। আল্লাহর রসুল কেন জিহাদ করেছেন, কখন করেছেন ইত্যাদি আকীদা তাদের অজানা। আরেকদল ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখলেন যে, ‘আল্লাহর রসুল রাষ্ট্রচালনা করেছেন।’ ব্যস, তারা পাশ্চাত্যের তৈরি প্রক্রিয়ায় রাজনীতি শুরু করে দিলেন। ওদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ নামাজ, রোজা, তসবিহ, তাহলিল, জিকির আজগার ইত্যাদিকেই ইসলাম বলে সাব্যস্ত করে নিয়েছে, জীবনের উদ্দেশ্য বলে ধরে নিয়েছে। তাদের আবার জিহাদ, রাষ্ট্র, আইন, কানুন, দণ্ডবিধি, অর্থনীতি ইত্যাদি নিয়ে মাথাব্যথা নেই, ওগুলো তাদের ধারণারও বাইরে। আল্লাহর রসুল নামাজ পড়েছেন, উম্মাহকে নামাজে উৎসাহ দিয়েছেন, কাজেই তাদের ধারণা শুধু নামাজ পড়েই তারা এত সওয়াব কামিয়ে ফেলবেন যে, জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে। অন্য কিছুর দরকার নেই।
এই যে আল্লাহর রসুলের ঘটনাবহুল জীবনের খাতা থেকে একেকজন একেক পাতা ছিঁড়ে নিয়ে সেটাকেই আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনের একমাত্র দিক বলে গ্রহণ ও প্রচার করছেন, এটা সম্ভব হচ্ছে কারণ যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আল্লাহর রসুল সংগ্রাম করেছিলেন; জাতির সামরিক, অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক, বিচারিক ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গনে গতিশীল পদচারণা করেছিলেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জাতি হারিয়ে ফেলেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আল্লাহর রসুলের কর্মকাণ্ডকে বোঝা তাদের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় তারা রসুলাল্লাহকে জানছেন খণ্ডিতভাবে এবং সেটাকেই রসুলাল্লাহর আগমনের লক্ষ্য বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।
একজন মানুষ বলতে আমরা কী বুঝব? মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সমগ্রটা নিয়ে একজন মানুষ। যদিও পা তার দেহেরই অঙ্গ কিন্তু দেহ থেকে পা’টা আলাদা করে নিলে সেই পা’কে আর মানুষ বলা যায় কি? যায় না। তেমনি আলাদাভাবে মস্তক, হাত, কান, চোখ ইত্যাদি কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেই মানুষ বলা যায় না। কিন্তু সেটাই বলা হচ্ছে ইসলামের বেলায়। একটি শ্রেণির দিকে তাকালে মনে হয় আল্লাহর রসুল এসেছেন মানুষকে শুধু মেসওয়াক করাতে, ডান খাতে শোয়াতে, খাওয়ার পরে মিষ্টি খাওয়াতে। আরেকদিকে তাকালে মনে হয় আল্লাহর রসুল এসেছেন বিধর্মীদের কতল করাতে। কারো দিকে তাকালে মনে হয় তিনি এসেছেন রাজনীতি শেখাতে। একইভাবে এক শ্রেণির দিকে দেখলে মনে হয় তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য আর কিছুই নয়, সুফি সাধক তৈরি করা। সমাজের অন্যায় অবিচার যাই হোক ওদিকে না তাকিয়ে বিভিন্ন তরিকা ধরিয়ে দিয়ে মানুষকে আত্মার ঘসামাজায় বসিয়ে দেওয়াই তাঁর মূল কাজ ছিল!
এই যে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি- এই বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও দিক-নির্দেশনার কারণে জাতি আজ বিভিন্নদিকে ছুটে চলেছে। যারা রসুলের জীবনের হাজারো শিক্ষা থেকে বেছে বেছে মেসওয়াককে গ্রহণ করেছেন কিন্তু কিতালকে বর্জন করেছেন, তারা কিতালকারীদের দুই চোখে দেখতে পারেন না এবং যারা আবার অন্যসব ভুলে শুধু কিতালকে গ্রহণ করেছেন তারা মেসওয়াকধারীদের দেখতে পারেন না। যারা আধ্যাত্মিকতাকে আঁকড়ে ধরেছেন তারা রাজনীতিকারীদের পছন্দ করেন না, তাদেরকে পথভ্রষ্ট মনে করেন এবং যারা রাজনীতিকেই ইসলাম মনে করেন তারা আধ্যাত্মিক চর্চাকারীদের পথভ্রষ্ট, ভণ্ড মনে করেন ও গালমন্দ করেন। অথচ এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, আল্লাহর রসুল যেমন সমস্ত নির্যাতন অপমান গায়ে না মেখে তওহীদের দিকে মানুষকে আহ্বান করেছেন, তেমনি শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধও করেছেন, প্রশিক্ষণ দিয়ে দুর্ধর্ষ যোদ্ধা জাতি তৈরি করেছেন। তিনি ক্ষমার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, কুসুমের মত কোমলতা প্রদর্শন করেছেন, আবার পাথরের মত শক্ত ও পাহাড়ের মত অটল থেকে অপরাধীকে কঠোর দণ্ডও দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তাবকে দুই পায়ে ঠেলে দিয়েছেন, অর্থাৎ রাজনীতিকে উপেক্ষা করে গেছেন, আবার একটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বও পালন করেছেন, বিচার ফয়সালা করেছেন। শুধু তাই নয়, জাতির আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য বিভিন্ন ধরনের আমলের শিক্ষাও তিনিই দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কোনটা কখন কীভাবে এবং কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে। কারণ, এর উত্তর জানাই আকীদা, যেই আকীদা ছাড়া ঈমান ও আমল সমস্তকিছুই নিষ্ফল হয়ে যায়। ইসলামের বহু বিধান রয়েছে- নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, জিহাদ, কিতাল ইত্যাদি। মনে করুন এই বিধানগুলোকে একেকটি ফুল। আর ইসলামকে মনে করুন সেই ফুলগুলো দিয়ে তৈরি মালা। ফুলগুলোকে যতক্ষণ না একটি সুতো দিয়ে একত্রে গেঁথে সেই সুতোটি গিঁট দেওয়া হবে ততক্ষণ কি সেটা মালা হতে পারবে? পারবে না। এই সুতোর গিঁটটাই হচ্ছে আকীদা। আমরা বিয়ের ব্যাপারে ‘আকদ’ শব্দটি ব্যবহার করি একজন পুরুষের সাথে একজন নারীর ‘সংযোগ করে দেওয়া’ বোঝাতে। অর্থাৎ যে জ্ঞান বা ধারণার মাধ্যমে ইসলামের সমস্ত বিধান, সমস্ত বিশ্বাস, সমস্ত রীতি-নীতি এবং আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনের সমস্ত কর্মপ্রক্রিয়া একটি সূত্রে সমন্বিত থাকে সেটাই আকীদা।
আজকে আমাদের সমাজে মসজিদ ভর্তি মানুষ নামাজ পড়ছে, লক্ষ লক্ষ লোক হজ্ব করতে যাচ্ছে, রমজান মাসে রোযা রাখছে, ঈদের দিনে উৎসব করছে, আবার কথিত জিহাদও করছে, কিন্তু এই বিধানগুলোর একটির সাথে আরেকটির কী স¤পর্ক তা কেউ জানে না। কোন আমলের পূর্বশর্ত কোনটা তাও তাদের অজানা। তারা নামাজ পড়ছে কিন্তু নামাজের উদ্দেশ্য অজানা। লাখ লাখ টাকা খরচা করে হজ্ব করতে যাচ্ছে কিন্তু জানে না হজ্বের উদ্দেশ্য কী। জিহাদের নামে শরীরে বোমা বেঁধে আত্মঘাতী হয়ে যাচ্ছে কিন্তু জানে না জিহাদের উদ্দেশ্য কী। তারা জানে না নামাজের সাথে জিহাদের স¤পর্ক কী, আবার জিহাদের সাথে তওহীদের স¤পর্ক কী। অর্থাৎ ফুল অনেক থাকলেও সেগুলো কেবলই ছিন্নবিচ্ছিন্ন ফুল। সেই ফুল কখনও মালা হয়ে উঠে নি। আর যতক্ষণ এই ফুলগুলো একত্রে গ্রন্থিত হয়ে মালা তৈরি না হয় ততক্ষণ সেটা বিশ্বনবীর ইসলাম হয় না। এ কারণে আমাদের সমাজে ইসলাম বলে যেটা পালিত হচ্ছে বাইরে থেকে দেখতে সেটা আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলামের মত মনে হলেও আদতে সেটা আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয়, তার বিপরীত একটা কিছু। এবং এই জাতি তাদের বিকৃত ধারণায় আল্লাহর রসুলকে যেমনটা কল্পনা করে থাকে সেটাও ভুল। আল্লাহর রসুলকে জানতে হলে অবশ্যই আল্লাহর রসুলের আগমনের উদ্দেশ্য ও সংগ্রামী জীবনের আকীদা জানা থাকা অপরিহার্য। সেই সামগ্রিক ধারণা জাতির নেই, আছে বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু খণ্ডিত ধারণা যা দিয়ে আল্লাহর রসুলকে বোঝা দুরূহ।
একটি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ থাকে। যার গাড়ি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই তাকে যদি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দিয়ে সেগুলো সংযুক্ত করতে বলা হয় তিনি কি পারবেন? সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়, তিনি ব্যর্থ হবেন। গাড়ির ইঞ্জিন কোথায় বসবে, গিয়ার বক্স কোথায় বসবে, লুকিং গ্লাস কোথায় বসবে, চাকা কোথায় বসবে, আবার হয়ত কোন যন্ত্রাংশ গাড়ির অংশই নয়, ক্ষতিকর, সেটা ফেলে দিতে হবে- এসব কিছুই তিনি জানেন না বিধায় যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে স্থাপন করতে পারবেন না এবং চ‚ড়ান্তভাবে একটি গাড়ির যে উদ্দেশ্য থাকে অর্থাৎ মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া সেই লক্ষ্যও ওই ব্যক্তিকে দিয়ে অর্জিত হবে না। তা কেবল তিনিই পারবেন যিনি গাড়ি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন। ১৩০০ বছরের কালপরিক্রমায় এক আল্লাহ, এক রসুল, এক কিতাবের অনুসারী এক জাতিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গাড়ির যন্ত্রাংশের মতই ভেঙে আলাদা আলাদা করা হয়েছে এবং শুধু তাই নয়, আজ বিভিন্ন ফেরকা, মাজহাব, তরিকা, দল উপদল ইত্যাদি ওই ভাঙা গাড়ির ভিন্ন ভিন্ন অংশকেই ‘গাড়ি’ মনে করছেন। গাড়ির যে কাজ সেটা তো লুকিং গ্লাস দিয়ে হাসিল করা যায় না, হোক সেটা গাড়ির অংশ। অথচ সেটাই করার চেষ্টা হচ্ছে। কেউ অতি নিখুঁতভাবে গাড়ির চাকা পরিষ্কার করছেন, ইঞ্জিন পরিষ্কার করছেন, লুকিং গ্লাসের ধুলোবালি মুছছেন, ক্যাসেট প্লেয়ার মেরামত করছেন এবং মনে করছেন খুব সওয়াবের কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু সম্যক ধারণা নেই বলে সমস্ত যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করে যে গাড়িটির পূর্ণাঙ্গতা দিবেন এবং তারপর সেই গাড়িটি চালিয়ে গন্তব্যস্থলে যাবেন সেটা কেউ করছেনও না, জানছেনও না।
আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনের লক্ষ্য (আকীদা) ভুলে গিয়ে লক্ষ্য অর্জনের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকেই আজ লক্ষ্য বানিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তার পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে মুসলমান জাতি। সাম্রাজ্যবাদীরা তাদেরকে টার্গেট করেছে। তাদের দেশগুলো একের পর এক ধ্বংস করে ফেলছে। গণহত্যা চালাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ নারী ধর্ষিতা হচ্ছে। কোটি কোটি মুসলমান আজ উদ্বাস্তু। কিন্তু জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে এই আগ্রাসন যে মোকাবেলা করবে, তা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। কোথাও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। এই অবস্থায় জাতির করণীয় ছিল দুইটি- প্রথমত নিজেদের মধ্যে যাবতীয় মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং দ্বিতীয়ত আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনকে সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করে তিনি যেই কর্মপন্থায় যেই লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন সেই কর্মপন্থা মোতাবেক সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া। কিন্তু হায়! ঐক্যবদ্ধ হবার সমস্ত পথই যে বন্ধ। দ্বীনের প্রকৃত আকীদা ভুলে গিয়ে, আল্লাহর রসুলের আগমনের উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে, তওহীদের রশি ছেড়ে দিয়ে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ছোট-খাটো বিভিন্ন আমল নিয়ে তর্ক, বাহাস, মারামারি ইত্যাদিতে লিপ্ত থেকে ঐক্যের সমস্ত দরজাতেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর দ্বীনের ছোট খাটো কম প্রয়োজনীয়, এমনকি অপ্রয়োজনীয় বিষয়েও বাড়াবাড়ি রকমের অতি বিশ্লেষণ করতে করতে ছোট খাটো বিষয়ের মধ্যেই জাতির দৃষ্টিভঙ্গি এমনভাবে নিবদ্ধ হয়ে গেছে যে, সেখান থেকে মাথা তুলে এক নজরে আল্লাহর রসুলের সামগ্রিক জীবনটাকে দেখার ও উপলব্ধি করার সক্ষমতা তাদের নেই। এমতাবস্থায়, এই জাতির ঐক্যের সূত্র কী হতে পারে এবং আল্লাহর রসুল কীজন্য আবির্ভুত হয়েছিলেন, কী লক্ষ্যে সংগ্রাম করেছেন এবং জাতির উপর কী দায়িত্ব অর্পণ করে গেছেন, তা জাতির সামনে তুলে ধরার মহৎ উদ্যোগটি নিয়েছে হেযবুত তওহীদ। হাজারো বিকৃতি ও মতভেদের চাদর সরিয়ে আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলামের যে আকীদা হেযবুত তওহীদ উপস্থাপন করছে তা যদি জাতি উপলব্ধি করতে পারে তাহলে এখনও ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব নয়। [মোহাম্মদ আসাদ আলী: সাংবাদিক ও কলামিস্ট; ফেসবুক: facebook/asadali.ht, ফোন: ০১৬৭০-১৭৪৬৪৩, ০১৬৭০-১৭৪৬৫১]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
 ২ মে ২০২৬    HT All Article

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
 ১ মে ২০২৬    HT All Article

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমিয়েছে চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন

জ্বালানির দাম কমালো চীন জ্বালানির দাম কমালো চীন
চীনে প্রতি ১০ কর্মদিবস অন্তর বৈশ্বিক তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে এখন চালকদের প্রায়…
 ২৯ এপ্রিল ২০২৬    মতামত

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!

গুজবের মহামারী; সময় থাকতে মনা হুঁশিয়ার!
কথক দা: আমরা যেন আইয়্যামে গুজবে বাস করছি। অপতথ্য আর অপসংবাদের ভীড়ে কোনটা সত্য আর কোনটা অর্ধসত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা বোঝা খুবই মুশকিল। একসময়…
 ২৭ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান

খুররম খান পন্নী: রাজনীতি, কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী অবস্থান
এম আর হাসান:খুররম খান পন্নী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান পর্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এই তিনটি…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আশা কতটা?
শাহাদৎ হোসেন:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ

ঋণের চাপে ‘ক্লান্ত’ অর্থনীতি সুদের ভর্তুকিতেই যাবে বাজেটের বড় অংশ
ওবায়দুল হক বাদল:আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব খাতে ২ লাখ…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য: নিছক আলোচনা নাকি বাস্তবতার দাবি?
মুস্তাফিজ শিহাব:বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এক চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে রয়েছে বিপুল জনশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে চরম অবমাননা…
 ২৬ এপ্রিল ২০২৬    HT All Article