
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয় থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে ইউরোপের একটি শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বনেতারা এক ঐতিহাসিক নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) এই চুক্তির খসড়া অনুমোদন করা হয়, যেখানে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো আগামী এক দশকের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ বর্তমান মাত্রার অর্ধেক কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে বিশাল অংকের বিনিয়োগ করা। উন্নত দেশগুলো একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বীপরাষ্ট্র এবং উপকূলীয় দেশগুলোকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। পরিবেশবাদীরা এটিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বললেও, বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।
জাতিসংঘের মহাসচিব এই চুক্তিকে মানবসভ্যতা রক্ষার জন্য ‘শেষ সুযোগ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, প্রতিশ্রুতিগুলো যদি শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার কারণে কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। এখন দেখার বিষয়, শিল্পোন্নত দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এই চুক্তির শর্তগুলো কতটা আন্তরিকতার সাথে পালন করে।

